ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-19

, ১৭ জিলহজ্জ ১৪৪০

গরমে ভাইরাস জ্বর থেকে বাঁচতে যা করবেন

প্রকাশিত: ০৯:১৯ , ১১ আগস্ট ২০১৯ আপডেট: ০৯:১৯ , ১১ আগস্ট ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: গ্রীষ্মের দাবদাহে ঘামের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। এসময় সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যাসহ অন্যান্য রোগের সাথে ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে তা একটু বেশি। সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়ায় ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়।

ভাইরাস আক্রমণের দুই থেকে সাত দিন পর জ্বর হয়। শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, খাবারে অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হওয়া এই জ্বরের লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে পেটে সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। কারও হয়তো তিন দিনেই জ্বর ভালো হয়ে যায়। কারও আবার ৭ থেকে ১৪ দিনও লাগতে পারে।

ভাইরাস জ্বরের প্রথম লক্ষণ স্বাভাবিক জ্বরের মতোই। প্রথমে জ্বরের মাত্রা থাকে ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোগীর স্বাভাবিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। 

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে এই জ্বর বাতাসে ছাড়ায়। তবে ঠান্ডা লেগে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজেও এই জ্বর হয়।

ভাইরাস জ্বর থেকে বাঁচতে যা করবেন-

ভাইরাস জ্বর থেকে রক্ষা পেতে আগেই সাবধান হওয়া দরকার। সাধারণ একটি উপায়েই এর থেকে দূরে থাকা সম্ভব। রোজ সকালে খালি পেটে দুই কোয়া কাঁচা রসুন আর কাঁচা আদা চিবিয়ে খান। এই টোটকায় সর্দিকাশি, পেটের সমস্যা ও ভাইরাস জ্বর সহজে এড়াতে পারবেন।

রসুনে অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাংগাল উপাদান থাকে। এ ছাড়াও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে রসুন। আদা রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা বাড়ায় ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। আদা-রসুন একসঙ্গে খেলে তাই, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। 

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। সর্দিকাশি বা জ্বরের রোগীর সঙ্গে হাত মেলালে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। না ধুয়ে চোখে, নাকে বা মুখে হাত দেবেন না। এতে জীবাণু ছড়ায়।

যেহেতু ভাইরাস জ্বরের অন্যতম কারণ ডিহাইড্রেশন। তাই বেশি করে পানি পান করুন। মদ্যপান বা ধূমপান করবেন না।

খাবারের সামনে হাঁচি বা কাশি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। সব সময়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

ভাইরাস জ্বর হলে যা করবেন-

ভাইরাস জ্বর অবশ্য ভয়াবহ কোনো রোগ নয়। এর জন্য কোনো অ্যান্টিবায়েটিকেরও প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ খেতে হবে। জ্বর থাকা অবস্থায় প্রচুর পানি পান এবং বিশ্রাম করতে হবে। 

ভিটামিন ‘সি’ ও জিঙ্কযুক্ত খাবারকে প্রাধান্য দিতে হবে। তরল খাবার যেমন স্যুপ, ফলের রস বা লেবুর শরবত, স্যালাইন, ডাবের পানি খান। খাবারের তালিকায় যোগ করতে পারেন মওসুমি ফল। 

গলাব্যথার সমস্যা থাকলে লবণ মিশ্রিত কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে। গোসল করা বন্ধ করবেন না। শিশুদের ক্ষেত্রে ভেজা কাপড় দিয়ে বারবার শরীর মুছে দিন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করুন। 

কয়েক দিনের মধ্যে জ্বর ভালো হলেও থেকে যায় ক্লান্তি ও অবসাদ। এই অবস্থা দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is