ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-20

, ১৮ জিলহজ্জ ১৪৪০

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ০৯:৩৬ , ১০ আগস্ট ২০১৯ আপডেট: ১০:১৫ , ১১ আগস্ট ২০১৯

কাজী বাপ্পা: বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ মাস আগস্ট। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীন বাঙালী জাতির জনককে স্মরণ মানেই যেন শুধু তাঁর দীর্ঘ ত্যাগী রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম, নেতৃত্ব আর দেশ গড়ার স্বপ্নের আলোচনা। সেসবের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সাহচর্য পাওয়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষেরা এবার ব্যক্তি শেখ মুজিব নিয়েও তাদের স্মৃতির কথা বলেছেন। ব্যক্তি ও রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ধারাবহিক আয়োজনে আজ প্রশাসনিক অঙ্গনের ক’জন ব্যক্তিত্বের স্মৃতিকথা। 

দেশের জন্য একটি সৎ ও সুদক্ষ প্রশাসনের আকাংক্ষা কিভাবে লালন করতেন বঙ্গবন্ধু, তা দেখেছেন স্বাধীনতাত্তোর সময়ে প্রশাসনে তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা মানুষেরা।  রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর এডিসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আজিজ এবং বঙ্গবন্ধু প্রশাসনের সরকারি আমলা মোহাম্মদ মুসা বলেছেন, ‘পুরো ভেঙ্গে পড়েছিল দেশের কাঠামো, আমরা যারা সরকারি আমলা ছিলাম সচিবালয়ে তাদের ডেকে বঙ্গবন্ধু বললেন যে বেতন দিবো সেটাতেই কাজ করতে হবে। তার ব্যক্তিত্বের কারণে আমরা না করতে পারিনি। তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় মিত্র বাহিনীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ছিল তার সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।’

যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ গড়তে গিয়ে বিশাল দায়িত্বের মাঝে প্রশাসনিক পর্যায়ের সকল ক্ষুদ্র সমস্যার সমাধানেও জাতির জনকই ছিলেন শেষ ভরসার জায়গা। বঙ্গবন্ধু প্রশাসনের সরকারি আমলা মোহাম্মদ মুসা সাদিক এবং বঙ্গবন্ধু প্রশাসনের সরকারি আমলা এ কে আব্দুল মোমেন জানালেন, ‘ বঙ্গবন্ধু ২৬ হাজার স্কুল জাতীয়করণ করলেন, কৃষি খাতে জোর দেয়া হয়। আমাদের তখন প্রশাসনে দক্ষ লোকের অভাব ছিল, পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে লোক নিয়োগ করে আবারও সচল করলেন। তখন প্রতিদিনই সচিবালয়ে ঝগড়া বাধতো সচিবদের মধ্যে, আমরা দৌড়ে যেতাম বঙ্গবন্ধুর কাছে, তিনি এক ঝাড়ি দিয়ে সব ঝগড়া মিটিয়ে দিতেন।’  

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন ছিল বঙ্গবন্ধুর বড় সংগ্রাম, যা করতে গিয়ে অনেক জানা-অজানা শত্র“ও তৈরি হয়েছিল প্রশাসনে। বঙ্গবন্ধু প্রশাসনের সরকারি আমলা মোহাম্মদ মুসা সাদিক ও বঙ্গবন্ধু প্রশাসনের সরকারি আমলা এ.কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল কারণ তখন প্রশাসনে পাকিস্তানপন্থীরা ছিল। শিক্ষামন্ত্রীর গাফিলতীর কারণে তার ব্যক্তিগত সচিব দুর্নীতি করেছিল যে কারণে শিক্ষামন্ত্রীকেই মন্ত্রীত্ব থেকে বিদায় দেয়। শ্রীলংকা থেকে আসা নারিকেল তেল মোশতাকের শালা কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়, মোশতাককে টুপি আর জুতা খুলে হেটে বাসায় পাঠিয়ে দেন।’ 

বিশাল রাষ্ট্র নেতার সাথে প্রশাসনে কাজ করতে গিয়ে পাওয়া øেহ আর মমতা আজও পরম সুখের স্মৃতি যেমন, তেমন আছে আক্ষেপের জায়গাও। বঙ্গবন্ধুর এডিসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আজিজ বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত স্টাফ ছিলাম তারপরও রাতে বাসায় ফেরার সময় বসায়ে একসাথে ভাত খেতো। দোষটা আমাদেরই ছিল যে তাকে বাঁচাতে পারি নি।’
 

এই বিভাগের আরো খবর

স্বজনদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ মাস আগস্ট। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নেতা...

ব্যবসায়ীদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ মাস আগস্ট। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নেতা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is