ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-20

, ১৮ জিলহজ্জ ১৪৪০

সহচর রাজনীতিকদের চোখে বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ১১:১১ , ০৩ আগস্ট ২০১৯ আপডেট: ১০:৩২ , ০৪ আগস্ট ২০১৯

জয়দেব দাশ: বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ মাস `আগস্ট’। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়েছিল।

স্বাধীন বাঙালী জাতির জনককে স্মরণ করলে তাঁর দীর্ঘ ত্যাগী রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম, নেতৃত্ব আর দেশ গড়ার স্বপ্নের আলোচনাই প্রাধান্য পায়। সেসবের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সাহচর্য পাওয়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষেরা এবার বৈশাখী টেলিভিশনকে ব্যক্তি শেখ মুজিব নিয়েও তাদের স্মৃতির কথা বলেছেন।

ব্যক্তি ও রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ধারাবহিক আয়োজনে আজ রাজনৈতিক অঙ্গনের ক’জন ব্যক্তিত্বের স্মৃতি।

দেশের বড় রাজনৈতিক ধারার প্রবক্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাজনীতির জন্যই তার জীবন ছিল। স্বভাবিকভাবেই তাঁর রাজনৈতিক বন্ধু ও শত্র“র অভাব ছিল না। যাদের সান্নিধ্যে তিনি রাজনীতি শুরু করেছিলেন তারা কেউ নেই। যারা তাঁর সান্নিধ্যে রাজনীতি করেছেন তেমন অনেকেই আজও আছেন। তাদের ক’জন সেই সৌভাগ্যকে সম্পদ মনে করেন।  

বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ কর্মী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, আমি নিজেকে জীবনে খুব গর্বিত মনে করি, কারণ আমি জাতির জনকের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু বলতেন, দেশ ও জাতিকে দেওয়ার জন্য হলে রাজনীতি করো আর নিজে কি পাবে এটা চিন্তা করলে রাজনীতি করো না। এই প্রত্যয় ছিল বলেই ৭১’এ যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তিনি তাদেরকে যে শপথ করিয়েছিলেন কেউ শপথ ভঙ্গ করেন নাই।’

বঙ্গবন্ধুর আরেক প্রত্যক্ষ কর্মী অধ্যাপক মমতাজ বেগম অ্যাডভোকেট বলেন, বঙ্গবন্ধুর আচরণ, কথাবার্তা কারো সাথে তুলনা করা যাবে না। জাতির জনককে কাছ থেকে দেখা আরেক আওয়ামী লীগ নেতা আবু আহমেদ মান্নাফী বলেন, ”বঙ্গবন্ধু  রাজনীতি শিখিয়ে দিয়েছেন আমাদেরকে। ওনার কাছ থেকেই আমরা শিখেছি রাজনীতি। আর রাজনৈতিক বঙ্গবন্ধুকেই আমরা পাশে দেখেছি।’

তাঁর সাথে রাজনীতি করার স্মৃতি হাতরে ক’জন বললেন, জনমুখী রাজনীতির কারণে বঙ্গবন্ধু এবং তার ধানমন্ডির বাড়ি হয়ে উঠেছিল দেশের মানুষের ঠিকানা।

অধ্যাপক মমতাজ বেগম বলেন, ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, নিজে রাজনীতিবিদ না কিন্তু রাজনীতির সাথে এতে ওতোপ্রতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি সবাইকে চিনতেন সবাইকে জানতেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সাথে ভাল সম্পর্ক ছিল।’

মোজাফফর হোসেন পল্টু স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অকপটে অন্যের সাহায্য সহযোগিতার কথা স্বীকার করতেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী অবস্থায় ও এমন ঘটনা ঘটেছে।’

বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শীতা এবং তীক্ষ্ন স্মৃতিশক্তি তীব্রভাবে আকর্ষণ করতো রাজনীতির সহকর্মীদের। 

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, তিনি কোথায় ভ্রমণে গিয়েছিলেন এর মধ্যে ওনার ওয়ারেন্ট হয়েছিল, কোন নৌকার মাঝি তাকে নৌকা পাড় করে তার বাড়িতে নিয়ে গেছে। লাউ শাক দিয়ে খাওয়াইছে, ছোট মাছ দিয়ে খাওয়াইছে এইসব ওনার স্মৃতিপটে একদম জাগ্রত থাকত সবসময়।’

আবু আহমেদ মান্নাফী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু  যখন সাভারে গেলেন সেখানে গেট করা হল। তিনি যে আসবেন এমন রাস্তাই বের করা যাচ্ছিল না। পরে লাঠি চার্জ করতে হয়েছে। এটা দেখে বঙ্গবন্ধু দুই কদম এগিয়ে গিয়ে লাঠিটা ধরে বললেন, কি করছ? কাকে মারছ? এদেরকে মারলেতো আমার পিঠে দাগ লাগে, আমি ব্যাথা পাই। আবেগ ভরা কন্ঠে আবু আহমেদ মান্নাফী বলেন এইতো হলো বঙ্গবন্ধু।’

এই বিভাগের আরো খবর

স্বজনদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ মাস আগস্ট। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নেতা...

ব্যবসায়ীদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ মাস আগস্ট। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নেতা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is