কূটনীতিকদের চোখে বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ০৫:৪৬, ০১ আগস্ট ২০১৯

আপডেট: ০১:১৮, ০১ আগস্ট ২০১৯

কাজী বাপ্পা : বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ মাস আগস্ট। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীন বাঙালী জাতির জনককে স্মরণ মানেই যেন শুধু তাঁর দীর্ঘ ত্যাগী রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম, নেতৃত্ব আর দেশ গড়ার স্বপ্নের আলোচনা। সেসবের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সাহচর্য পাওয়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষেরা এবার বৈশাখী টেলিভিশনকে ব্যক্তি শেখ মুজিব নিয়েও তাদের স্মৃতির কথা বলেছেন। ব্যক্তি ও রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ধারাবহিক আয়োজনে আজ কূটনৈতিক অঙ্গনের ক’জন ব্যক্তিত্বের স্মৃতি কথা।

স্বাধীনের পরে দেশের কূটনীতি তো বটেই, বাংলাদেশ স্বাধীন করতে নিজের দীর্ঘ রাজনীতিতেও অজানা গোপন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তখন বিদেশে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন দেশের পরিচয়।  সাবেক কূটনীতিক ওয়ালিউর রহমান বললেন, ‌"একাত্তরে রিফিউজি হয়ে যখন জার্মানিতে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করতাম অন্য দেশে যাওয়ার সময় আমাদের কার্ড দেখে বলতো তোমরা শেখ মুজিবের দেশের লোক, তোমাদের কোন ভিসা লাগবে না। "

এদিকে, সাবেক কূটনীতিক এনাম আহমেদ চৌধুরী বললেন, " দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্যই ছিল অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা আর বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায় করা।"

তারা জানালেন, বঙ্গবন্ধুর অনেক রাজনৈতিক কূটনৈতিক চাল অনেকের কাছেই আজও এক বিস্ময়কর গল্পের মতো। যা তাঁর অকুতোভয় ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে। ওয়ালিউর রহমান বললেন, " বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমি যদি পালিয়ে যেতাম আর পাকিস্তানিরা আমাকে না পেত তাহলে গণহত্যার পরিমান আরও বেশি হত।"

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণকে বঙ্গবন্ধু বলিষ্ঠ কূটনৈতিক জবাব দিয়ে পরাস্ত করতে দেখেছেন সে সময়ে কূটনৈতিক জগতে তাঁর কাছের মানুষেরা। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ যেমন স্বাধীন স্বার্বভৌম আছে তেমনই থাকবে। কূটনৈতিকভাবে দক্ষ না হলে সেই অবস্থায় নাকচ করা সম্ভব ছিল না।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে হাজারো সংকট আর টানাপোড়েনের ভেতর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ অর্জন, বঙ্গবন্ধুর অনন্য কূটনৈতিক সাফল্য। তাঁর ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছে সেটা চির অমলিন স্মৃতি।

বিশ্বমানের নেতা হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর বিশেষ সম্মান-সমাদর ছিল আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। তাঁকে হত্যার প্রতিবাদে সরব হয়েছিল  শত্রু রাষ্ট্র পাকিস্তান ছাড়া সব দেশ। ওয়ালিউর রহমান ও এনাম আহমেদ চৌধুরী জানালেন, শুধু পাকিস্তান ছাড়া সব দেশ কনডেম করেছিল। এমনকি যেই যুক্তরাষ্ট্র একাত্তরে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিলো তারাও। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রাষ্ট্রদূত করে পাঠালে চীন ও কিছু মুসলিম দেশ ছাড়া আর কেউ তাদের গ্রহন করেনি।

এই বিভাগের আরো খবর

স্বজনদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের জন্য...

বিস্তারিত
ব্যবসায়ীদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের জন্য...

বিস্তারিত
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

কাজী বাপ্পা: বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ...

বিস্তারিত
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নারী ব্যক্তিত্বের স্মৃতিকথা

লাবণী গুহ: বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ মাস...

বিস্তারিত
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

কাজী বাপ্পা: বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ...

বিস্তারিত
অর্থনীতিবিদদের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু

মেহের মনি : বাংলাদেশের জন্য শোকাবহ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *