এনআইডি সেবা: প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা

প্রকাশিত: ১০:১৭, ২২ জুলাই ২০১৯

আপডেট: ০৭:২৬, ২২ জুলাই ২০১৯

কাজী ফরিদের প্রতিবেদন: অর্থের বিনিময়ে নাগরিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের সাথে এখন পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ ১০৪টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেবার মান নিয়ে অভিযোগ তুলেছে। প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতার অভাব তাদেরকে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অবহেলায় জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল তথ্য ও বানান সংশোধন করতে গিয়ে নাগরিকদের গুনতে হচ্ছে টাকা।

২০টি সরকারি, ৬টি মোবাইল, ৩টি মোবাইল ব্যাংকিং, ১টি বীমা, ১টি তথ্য-প্রযুক্তি এবং ৭৩টি ব্যাংক ও আর্থিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্থের বিনিময়ে নাগরিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ।

এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারের আয় হয়েছে ১৩০ কোটি টাকার বেশি। তবে কমিশনের এই সেবা নিরবিচ্ছিন্ন নয়। যা চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণও হয়।

কোম্পানিগুলোর দাবি পিক আওয়ারে এক ঘন্টা সার্ভার বন্ধ থাকলে অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হয়। তবে, নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টরা বলছে সক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠানকে সেবা দিতে গিয়ে মাঝে মধ্যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে সক্ষমতা বাড়ানো উদ্যোগ আছে বলে জানান ।

অন্যদিকে বিভিন্ন নাগরিকদের অভিযোগ, তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রে নির্বাচন কমিশন বানান ও তথ্যে ভুল করে রাখলেও সংশোধনী চাইতে গিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন পরিমানে টাকা দিতে হচ্ছে। কারও পরিচয়পত্র নষ্ট বা হারালেও টাকা দিয়ে আবার নিতে হচ্ছে।  

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা অনেক সময় তথ্য ও বানান ভুলের জন্য ফরম পুরণের সময় নাগরিকদের অসতর্কতাকে দুষছে আর নাগরিকরা দুষছে সরকারী কর্তৃপক্ষকে। আসলে কার দায় তা নিশ্চিত অসম্ভব। কারণ ২০১৫ সালের আগে পুরণ করা নাগরিকদের ফরমের তথ্য কিছু নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকলেও অধিকাংশ ফরমের খোঁজ নেই। তাই সেগুলো সার্ভারেও রাখতে পারেনি। যার ফলে সিংহভাগ নাগরিকের তথ্য মূল ফরমের সাথে যাচাই করার সুযোগ হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *