ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬

2019-09-19

, ১৯ মহররম ১৪৪১

গাইবান্ধা, নওগাঁ ও বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি 

প্রকাশিত: ০৯:৪০ , ১৯ জুলাই ২০১৯ আপডেট: ০৪:৫৪ , ১৯ জুলাই ২০১৯

বৈশাখী ডেস্ক: উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা, নওগাঁ ও বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গাইবান্ধায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি বাঁধ ভেঙে নতুন করে ডুবে গেছে কয়েকটি গ্রাম। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে শেরপুর সদরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরাতন ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জামালপুরে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

উত্তরাঞ্চলের কোন কোন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অবনতি হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। প্লাবিত হচ্ছে মধ্যাঞ্চল। 

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৪৪ সেন্টিমিটার ওপর ও ঘাঘট নদীর পানি ৮৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি সংকট। গাইবান্ধার বাদিয়াখালি থেকে ত্রিমুনী স্টেশন পর্যন্ত রেললাইন ডুবে যাওয়ায় বিকল্প পথে চলছে রেল যোগাযোগ। 

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জামালপুরের সাথে মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মাদারগঞ্জের চরনাদাগাড়িতে যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ আরও ১০ মিটার ভেঙ্গে ৩৫টি গ্রামসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জামালপুরে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় দেওয়ানগঞ্জ থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত এবং জামালপুর থেকে তারাকান্দি, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব লাইন ও উত্তরাঞ্চলে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নওগাঁর মান্দায় বাঁধ ভেঙে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৩১ গ্রামের ৭৫ হাজার মানুষ। বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে হাজারো বানভাসি মানুষ। 

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বেড়ে এবং পাহাড়ী ঢলের ফলে শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক সড়কে দুই ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। 

টাঙ্গাইলে তীব্র স্রোতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। নতুন করে প্ল¬াবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। পানিবন্দী রয়েছে শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ। কালিহাতি উপজেলায় পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার কাজিপুরে বাঁধ ভেঙে ডুবে গেছে পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি। লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। সুনামগঞ্জ সদরের সাথে বিভিন্ন উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

কাপ্তাই জলবিদ্যুত কেন্দ্রের ১৬টি গেট দেড় ফুট খুলে দেয়ায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও পটিয়ার নিুাঞ্চল প্ল¬¬াবিত হয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে কর্ণফুলী নদী ও বন্দর চ্যানেলে নৌযান ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 

কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়ে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ ডুবে গেছে। এছাড়া, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি-বাঘাইছড়ি সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে। 


 

এই বিভাগের আরো খবর

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত বিল ও বাড়তি মিটার ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। পর্যাপ্ত রিচার্জ...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is