ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-21

, ১০ মহাররম ১৪৪০

বিনা খরচে বিদেশ যেতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি

প্রকাশিত: ০৬:৪৬ , ২৫ মে ২০১৭ আপডেট: ০৬:৪৬ , ২৫ মে ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনা খরচে বিদেশ গমন ও বিনা সুদে ঋণের দাবি জানিয়েছে অভিবাসী কর্মীরা। আর এজন্য আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত ‘অভিবাসীর বাজেট’ শীর্ষক এক সমাবেশে এ দাবি জানান অভিবাসীরা।

সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৪০০ অভিবাসী কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের অভিবাসন বিষয়ক সংসদীয় ককাস কমিটির সদস্য নূরজাহান বেগম এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব জাবেদ আহমেদ।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে অভিবাসন ইস্যুতে কর্মরত সুশীল সমাজ প্রতিনিধি অধ্যাপক সি আর আবরার, সৈয়দ সাইফুল হক, আতিকুন নবী, হাসান ইমাম ও সুমাইয়া ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ওকাপের চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ওকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী।   

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওকাপ চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিবাসীদের ৯০ শতাংশ দালালের মাধ্যমে বিদেশে যেয়ে নানা রকম সমস্যায় পড়ছে। বিদেশ যাওয়ার জন্য সঠিক তথ্য না জানার জন্য এটা হচ্ছে। অথচ অভিবাসী কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির জন্য কোন বাজেট রাখা হয় না।

শাকিরুল ইসলাম বলেন, অভিবাসীর রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হলেও জাতীয় বাজেটে এই সেক্টরে বরাদ্দ মাত্র ০.১৭ শতাংশ, যা খুবই নগণ্য। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী পৃথিবীর ১৬১ টি দেশে কাজ করছে। এই অভিবাসীরা প্রতিবছর প্রায় ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে।

শাকিরুল আরো বলেন, বিদেশ ফেরত কর্মীদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই।

উপস্থিত অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে আগত বিদেশ ফেরত মোঃ শাহ জালাল বলেন, তিনি ১৫ বছর সৌদী আরবে ছিলেন। দেশে এসে গত ৪ বছর ধরে তিনি কর্মসংস্থানের চেষ্টা করেছেন কিন্তু আজও সফল হননি। তিনি সরকারের কাছে অভিবাসীদের জন্য বিনা সুদে ব্যাংক ঋণের বন্দোবস্ত করতে জাতীয় বাজেটে অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির জোড় দাবি জানান।
শাহজালাল নামে অপর অভিবাসী কর্মী দাবী জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে যারা ফিরেন, সরকার যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়। অভিবাসী কর্মী শহিদুল ইসলাম দাবী জানান, অভিবাসীরা যাতে বিনা জামানতে ঋণ পেতে পারেন সেজন্য আগামী বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। অভিবাসী কর্মী নুরুল ইসলাম বলেন, সরকার যদি বিনা খরচে বিদেশে পাঠায় তাহলে অভিবাসী কর্মীদের জমি-জমা বিক্রি করতে হবে না।

অভিবাসী কর্মী সুপ্রিয়া বলেন, ‘প্রায় ২০/২৫ বছর বিদেশে থেকেও আমি এখন শূন্য। সরকার যদি আমাদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা কিছু করতে পারি’।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক অধ্যাপক সিআর আবরার বলেন, ‘১৭ শতাংশ বরাদ্দ খুবই নগণ্য। অভিবাসী কর্মীদের সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দরকার’। তিনি অভিযোগ করেন কর্মীদের কল্যাণ ফান্ড থেকে নানা কাজে অর্থ খরচ করা হচ্ছে যার ফলে সরাসরি কর্মী লাভবান হচ্ছে না। অধ্যাপক আবরার আরও বলেন, কম্পিউটার কেনা, ডিজিটালাইজেশন, বেতন, তেলের খরচ এর জন্য কল্যাণ ফান্ড থেকে খরচ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অভিবাসী কর্মীদের চাহিদা মেটাতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে’।
প্রবাসী কর‌্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মদক্ষতা ও সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। অভিবাসী কর্মীদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে’।

জাবেদ আরো উল্লেখ করেন, ‘আমাদের অনেক টাকা ফেরত দিতে হয়। আমরা খরচ করতে পারিনা’।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নূরজাহান বেগম বলেন, অভিবাসন খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এসডিজি অর্জন করতে হলে এ খাতকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একজন কর্মীর তিন থেকে পাঁচ মাসের বেতনের সমান হবে অভিবাসন খরচ। তিনি দালালদের খপ্পরে না পড়ার জন্য বিদেশগামী কর্মীদের আহ্বান জানান।

নূরজাহান বেগম আরো বলেন, আগামি বাজেটে অভিবাসন খাতে বেশি বাজেট বরাদ্দের জন্য তিনি জাতীয় সংসদে দাবী উত্থাপন করবেন।

অনুষ্ঠানে ওয়ারবি চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক প্রশ্ন করেন কর্মীদের বিদেশ পাঠানোর জন্য সরকারের খরচ কত? মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বেতন ছাড়া আর খরচ কোথায়? তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতে সরকার ৫-১৫ শতাংশ প্রণোদনা/ভর্তুকি দিয়ে থাকেন। অথচ অভিবাসী কর্মীদের ১০০ ডলার পাঠাতে ১০ ডলার খরচ করতে হয়। তিনি বিদেশ ফেরত কর্মীদের জন্য একটি সেন্টার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য কোন হাসপাতাল বা স্কুল নেই।

সাইফুল হক আরও বলেন, অভিবাসীদের জন্য  পাঁচ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে আরও বেশি বাজেট দাবি করতে আহবান জানান।

বমসার পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ওয়েলফেয়ার ফান্ডের টাকা কর্মীদের টাকা। কল্যাণ ফি ৩৫০ টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করে এ ফান্ডের টাকা কর্মীদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

গণমাধ্যমের হাত-পা বাঁধতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি...

খালেদার অনুপস্থিতিতেই দাতব্য ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন...

রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আশ্বিনের শুরুতে প্রকৃতিতে শীতের আবহ তৈরি হলেও গেলো কয়েকদিন ছিলো বিপরীত। রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র গরমে জনজীবন অস্থির...

সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আদালতে যাবেন না খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আদালতে যাবেন না বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার বিকেলে, পুরোন...

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে- সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগনের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করার ফলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সমৃদ্ধশালী হচ্ছে। সংসদে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is