সব মামলায় রানার জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

প্রকাশিত: ১২:২৩, ১৯ জুন ২০১৯

আপডেট: ০৩:৪২, ১৯ জুন ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যাসহ তিন মামলাতেই জামিন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা। ফলে কারাগার থেকে সাবেক এই সাংসদের তার মুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় বুধবার ( ১৯জুন) দুপুরে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দিয়েছেন। এর আগে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় তার হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। 

দুই যুবলীগ হত্যা মামলায় রানার পক্ষে আজ রুল শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রুশো মোস্তফা। আর রাষ্ট্রপক্ষে রুল শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ড. মো বশিরউল্লাহ।

জামিন আদেশের পর আইনজীবী রুশো মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট গত ৬ মার্চ যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে রুল জারি করেছিল। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে গেলে চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান গত ১৪ মার্চ জামিন স্থগিত করে দেন। পরে ২৩ এপ্রিল আপিল বিভাগও স্থগিতাদেশ বহাল রেখে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।

এর আগে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক এ সংসদ সদস্যেকে ছয় মাসের জামিন দেয়।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ২৫ মার্চ জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয় চেম্বার আদালত।

তারই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ আবেদনটির শুনানি নিয়ে গত ১ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি খারিজ করে দিলে এ মামলায় রানার জামিন বহাল থাকে।

আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৎকালীন এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত।

অন্যদিকে ২০১২ সালের ১৬ জুলাই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন মোটর সাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে নিখোঁজ হলে পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

ওই ঘটনায় ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্ত করে ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে পুলিশ।

পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরন মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যুবলীগ নেতা শামীম ওমামুন হত্যার ঘটনায় আমানুর রহমান খান রানার নাম উঠে আসে।

গ্রেপ্তাররা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, রানার নির্দেশেই যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালত গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে আসেন।

তাদের আবেদন শুনে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৬ মার্চ রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছিল।

এই বিভাগের আরো খবর

আদালতের বাইরে সম্রাট সমর্থকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুবলীগ ঢাকা মহানগর...

বিস্তারিত
খুলনায় বন্দুকযুদ্ধে ৪ জলদস্যু নিহত

ডেস্ক প্রতিবেদক: সুন্দরবনে র‌্যাব-৬...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *