ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

2019-07-22

, ১৯ জিলকদ ১৪৪০

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ

মানুষের ভালোবাসাই শেখ হাসিনার বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি 

প্রকাশিত: ১১:২৪ , ১১ জুন ২০১৯ আপডেট: ১২:৫৯ , ১১ জুন ২০১৯

জয়দেব দাশ : দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে মানিকমিয়া এভিনিউতে ৩৮ বছর আগে লাখ লাখ মানুষের মাঝেই খুঁজে ফিরেছেন হারানো বাবা-মা, ভাই আর স্বজনদের। বলেছিলেন-‘আমি চাই বাংলার মানুষের মুক্তি, শোষনের মুক্তি’। ২০০৮ সালে সাব জেল থেকে মুক্ত হয়ে বলেছিলেন ‘মানুষের ভালোবাসাই আমার বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি’। এখনো একটিই ধ্যান তাঁর- বাংলার চির দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা এগুলো।  

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই কথিত ঘুষগ্রহনের মামলায় ধানমণ্ডির নিজস্ব বাসভবন সুুধাসদন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার আর রক্তের যোগ্যউত্তসূরি ছাড়া øেহের শীতল ছায়া থকে বঞ্চিত লাখ লাখ নেতাকর্মী গর্জে ওঠে। কিন্তু প্রকাশ্য প্রতিবাদের শক্তি ছিলোনা তাদের। ওই সময় দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে গোপন আতাত করলেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল ছিলো তৃণমূল। দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বরাবরের মতোই সংকটে সেদিন পাশে ছিলো আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার।

সেনা সমর্থিত ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রথম প্রতিরোধের শিকল ছিঁড়ে ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাবিক বাদশার নেতৃত্বে ১৫/২০ জন  নেতাকর্মী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে।

এরপর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ গণস্বাক্ষর শুরু করে। পরে তা সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের একাগ্রতা আর দলের প্রতি নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থায় জোড়দার হয় শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলন। নানা প্রলোভনেও শেখ হাসিনাকে ছাড়া নির্বাচনে যেতে অপারগতা জানান সংকটে নেতৃত্বের আরেক আস্থা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। 

ফলে দীর্ঘ ১১ মাস কারাবন্দি রাখার পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সাবজেল থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়  সরকার। বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে শেখ হাসিনা ছুটে যান সুধাসদনে। সেদিন হাজার হাজার মানুষের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত হন শেখ হাসিনা। আবেগ আপ্লুত শেখ হাসিনা একজন চিরায়ত বাঙালি নারীর মতই সেইদিন বারবার ভেজা চোখ মুছেছেন শাড়ির আঁচলে। 

মুক্তি পেয়েই সেদিন হাজারো ভক্ত অনুরাগীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। নেতাকর্মীদের ভালোবাসার জবাবে শুধুই কেঁদেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। কাঁদিয়েছিলেন হাজার হাজার নেতাকর্মী আর ভক্ত অনুরাগিকে। 

দলীয় নেতাকর্মী আর বাংলার মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সেদিন সজল চোখেই শেখ হাসিনা বলেছিলেন পিতা-মাতা, ভাই আর স্বজন হারিয়ে এখন তার বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি শুধুই দেশের মানুষের ভালোবাসা। মুক্ত হয়েই শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাকেই তিনি তাঁর সারাজীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। যা আজও পালন করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানে এবং বিদেশে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। 

এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্যাতন আর নির্মমতার চিত্র তুলে ধরে আজ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো দিনটি পালন করছে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

বহিষ্কার হলেন প্রিয়া সাহা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অসত্য অভিযোগ দেওয়ায় প্রিয়া সাহাকে...

প্রিয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়: হিন্দু-বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান ধর্মীয় কল্যাণ...

প্রিয়ার বক্তব্যের পেছনে কারো প্ররোচনার সন্দেহ কাদেরের

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্য কারো প্ররোচনায় প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is