ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-21

, ১০ মহাররম ১৪৪০

ঠাণ্ডা ঘরের বিপদ

প্রকাশিত: ০৭:৪১ , ২২ মে ২০১৭ আপডেট: ০৭:৪১ , ২২ মে ২০১৭

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: গরম কালে সূর্য যখন আগুন ঝরাচ্ছে, তখন এয়ারকন্ডিশনড ঘরের চেয়ে আরামের আর কী-ই বা হতে পারে! কিন্তু জানেন কি, দিনের পর দিন এসি ঘরে— সে বাড়ি কিংবা অফিস, যেখানেই হোক না কেন— থাকার বেশ কিছু খারাপ প্রভাব দেখা দেয় শরীরে?

মূলত ১০টি শারীরিক সমস্যা হওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা, যা নিয়মিত এসি ঘরে থাকার ফলে দেখা দেয়। সমস্যাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো — 

১. এসি ঘরের তাপমাত্রা প্রাকৃতিক তাপমাত্রার চেয়ে কম হয়। এমন পরিবেশে মানবশরীরকে তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য অধিক পরিশ্রম করতে হয়। তার ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। 

২. সারাক্ষণ এসি-তে থাকলে শরীরে রক্তসঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে বিভিন্ন অংশের মাংসপেশিতে ক্র্যাম্প সৃষ্টি হয়, এবং মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। 

৩. এসি ঘরে তাপমাত্রার অদলবদল হয় না। ফলে এসি ঘরে থাকতে থাকতে শরীরও এক ধরনের তাপমাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কোনো কারণে সেই তাপমাত্রার চেয়ে গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় থাকতে হলে শরীর সেই তাপমাত্রার সঙ্গে চট করে মানিয়ে নিতে পারে না। এর ফলে উদ্বেগ কিংবা স্ট্রেসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। 

৪. দিনে অন্তত চার ঘন্টা এসি ঘরে থাকা যাঁদের অভ্যেস, তাঁদের মিউকাস গ্ল্যান্ড স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে তাঁদের সাইনাসের সমস্যা দেখা দেয়। 

৫. এসি-র ফিল্টার যদি অনেক দিন পরিষ্কার করা না হয়, তা হলে এসি থেকে নির্গত হাওয়ায় অনেক সময়ে ধুলোবালি কিংবা ব্যাকটেরিয়া মিশে যায়। এর ফলে সর্দি-কাশি কিংবা ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। 

৬. এসি ঘরে স্বাভাবিকের তুলনায় আর্দ্রতা কম থাকে। এর ফলে স্কিনের ড্রাইনেস বা শুষ্কতার সমস্যা দেখা দেয়। 

৭. এসি শুধু ত্বক নয়, চোখকেও শুষ্ক করে দেয়। এর ফলে চোখে চুলকানি, চোখ লাল হওয়া, চোখ থেকে জল ঝরা প্রভৃতি রোগের সৃষ্টি হয়। 

৮. এসি ঘরে থাকলে হাঁটু, কোমর, কনুই কিংবা ঘাড়ের কার্যকারিতাও প্রভাবিত হয়। সাধারণত এই সমস্ত জয়েন্টে এসি'র হাওয়ার প্রভাবে যন্ত্রণা দেখা দেয়। 

৯. দীর্ঘ সময় ধরে এসি ঘরে থাকলে হাঁপানির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যদি আপনার ঘন ঘন সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার রোগ কিংবা ধুলোর অ্যালার্জি থেকে থাকে, তা হলে এসি ঘরে না থাকাই ভাল। 

১০. এসি ঘরে দীর্ছক্ষণ থাকলে ধমনী বা শিরা সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে দেহে রক্ত সঞ্চালন প্রভাবিত হয়। 

এ তো গেল সমস্যা। কিন্তু গরম কালে এসি না চালিয়ে থাকাও তো সম্ভব নয়। আর অফিস যদি এয়ারকন্ডিশনড হয়, তা হলে তো এসি বন্ধ করার কোনো উপায়ই নেই। তা হলে কী ভাবে নিজেকে রক্ষা করা যাবে এসি'র কুপ্রভাব থেকে। এর জন্য নিম্নলিখিত কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে। যেমন— 

১. অফিসে যদি এসি থাকে, তা হলে দু-এক ঘণ্টা বাদে বাদে এসি ঘর থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার কোনো জায়গায় পাঁচ-সাত মিনিট কাটিয়ে আসুন। 

২. বাড়িতে এসি থাকলে ঘন্টাখানেক বাদে বাদে পাঁচ-সাত মিনিটের জন্য এসি অফ করে দিন। 

৩. বাড়ি হোক বা অফিস— চেষ্টা করুন, এসি-র হাওয়ার এক্সপোজার যেন সরাসরি মাথায় না লাগে।

এই বিভাগের আরো খবর

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরামর্শক থাইকম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ...

হঠাৎ ব্রেক ফেল?

ডেস্ক প্রতিবেদন:  কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই গাড়ির ব্রেক ফেল হয় বলে এর ঝুঁকি অনেক বেশি। ব্রেক ফেল করে কখনো কখনো প্রাণহানির ঘটনার খবর শোনা যায়।...

৫ ক্যামেরার ফোন আনছে নোকিয়া!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: পাঁচ ক্যামেরার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন আনতে পারে নোকিয়া, ডিভাইসটির ফাঁস হওয়া ছবিতে এমনটাই দেখা গেছে। চলতি বছরের...

রঙিন এক্স-রের উদ্ভাবন; চিকিৎসা বিজ্ঞানে যুগান্তকারী আবিষ্কার

ডেস্ক প্রতিবেদন: চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করলেন নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। রঙিন এক্স-রের উদ্ভাবন করলেন তাঁরা।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is