ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-26

, ১৫ মহাররম ১৪৪০

ধান নিয়ে ধানাই-পানাই

প্রকাশিত: ০৪:৪৩ , ২০ মে ২০১৭ আপডেট: ০৪:৪৩ , ২০ মে ২০১৭

।। কলিম খান ও রবি চক্রবর্ত্তী ।।

[ইংরেজি ভাষার অনুকরণে আমরা বর্তমানে বাংলা শব্দকে প্রতীকার্থে বা লোগোসেন্ট্রিক অর্থে ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু বাংলা শব্দরাজিকে যথার্থভাবে জানতে হলে তাদের ক্রিয়াভিত্তিক অর্থগুলোও জানা থকা উচিত। সেদিকটি বিবেচনা করে ভাষা গবেষক কলিম খান ও রবি চক্রবর্ত্তীর লেখা এই নিবন্ধটি এখানে তুলে ধরা হলো। আমাদের চিরপরিচিত 'ধান' শব্দটির উপর এখানে আলোকপাত করা হয়েছে।-- বিভাগীয় সম্পাদক  ]

ধান্য=ধান+য-ফলা="ধা+য (যৎ)। ধান থাকে যাহাতে। / পোষণে সাধু (যে) - ব্রীহি, সতুষ তণ্ডুল, ধান, ধন্যাক, রতির চতুর্থাংশ। - (বঙ্গীয় শব্দকোষ)। বর্ত্তমানে paddy (rice) অর্থে প্রচলিত।

ধান থাকে ধান্যতে। তার মানে হল সতুষ তণ্ডুল। সেই তুষ ছাড়িয়ে দিলে যেটি থাকে, তাকে অতএব ধান বলা চলে। বাস্তবে কিন্তু তা বলা হয় না, বলা হয় চাল। খোসাসুদ্ধ চালকেই ধান বলা হয়ে থাকে। নিয়মানুসারে তার স্বভাবেই 'ধারণেচ্ছা অন' থাকার কথা। অমরকোষের উদ্ধৃতি দিয়ে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, আমাদেরকে পোষণ (বা ধারণ) করার ব্যাপারে ধানই সাধু। তার মানে, আমাদের ধারণ-পোষণের আধার হল ধান, সেই ধান থাকে খোসাসুদ্ধ একপ্রকার শস্যে। তার সেই গুণের জন্য, অর্থাৎ, ধান রূপে ক্রিয়া করার জন্য তাকে ধান্য বলে।

ধান, ধানা, ধানাই-পানাই এবং অন্যান্য ধানান্তক শব্দসমূহ --
ধান=ধা+অন (ল্যুট্‌)-ভাববাচ্যে (বঙ্গীয় শব্দকোষ)। 
ধান=ধা (ধারক, ধারণেচ্ছা) অন থাকে যাহাতে। ধারণ, পোষণ, ধারণস্থান, আধার। "ধান=ধা (সত্তাধারী, সত্তা-ধারণ বা ধারণেচ্ছা) অনকৃত (সচল) যাহাতে; সত্তাধারী বা সত্তাধারণ (প্রক্রিয়া) সচল যাহাতে; মানসিক ও বাহ্যিকভাবে ধারণ করে যে বা করা হয় যাহাতে। ধারণ,পোষণ, ধারণস্থান, আধার,ধান্য"-(সরল শব্দার্থকোষ)।
ধানা=ধান-এর আধার যে। শরীরকে পোষণ করে যে। ভাজা যব, ভৃষ্টতণ্ডুল (ভাজা চাউল), সক্তু, অভিনব-উদ্ভিদ, অঙ্কুর, ধন্যাক।
ধানাই=ধানা (ধানের আধার) গতিশীল যাহাতে।
পানা=পানের আধার।
পানাই=পানা (পানের আধার) গতিশীল যাহাতে।
ধানাই-পানাই=অসংবদ্ধ কথা, অবোলতাবোল, নানা অপ্রাসঙ্গিক উক্তি। (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান - ঢাকা)।

আগেই ধ-বর্ণের অর্থে আমরা দেখেছি, যে এ-হল এমন এক প্রকার ধারণেচ্ছা, যা কোনো কিছু গ্রহণ করার জন্য হাঁ করে রয়েছে; নিন্দার্থে নয়, সদর্থকভাবেই। এই 'ধ' অন হয়ে থাকলে বা হাঁ করে গ্রহণ চালাতে থাকলে তাকে 'ধান' বলাই সঙ্গত। অন্যভাবে বললে বলা যায়, যে সত্তা 'ধন' গ্রহণ করে শরীরাভ্যন্তরে আনয়ন করতে থাকে, তাকেই ধান বলে; তবে এই 'ধন' টাকাকড়ি থেকে অনেক বেশী বোঝায় অন্যধরনের 'ধন'গুলিকে এবং তার পরিমাণ কত বেশী, তা আমরা উপরোক্ত উপসর্গাদিযুক্ত (অনুসন্ধান থেকে সাবধান প্রভৃতি) শব্দগুলির সংখ্যা থেকেই বুঝতে পারি।

যাই হোক, ধান কথাটিকে যদি ক্রিয়ারূপে দেখি, তাহলে তার অর্থ স্পষ্ট হয় ধানা ও ধানাই-পানাই শব্দের অর্থ থেকে। ধান করা মানে, দানার মতো বস্তু এক এক করে গ্রহণ করা; আর পান করা মানে তরল বস্তু মুখে ঢেলে গ্রহণ করা। ভাজা চাল কিন্বা যবকে সেকারণেই ধান্য বলে, যাদের গোটা গোটা মুখে ফেলে খেয়ে নেওয়া যায়; আর, বেলের 'পানা'র কথা তো সবাই জানেন। এটি তরল সরবৎ জাতীয় বস্তু, একে পান করা যায়। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় - পানাই মানে 'পান ক্রিয়াটি করি', যেমন খাই মানে 'খা ক্রিয়াটি করি'; একইভাবে, ধানাই মানে 'ধান ক্রিয়াটি করি'। ক যখন খ-কে বলে, 'ধানাই-পানাই ছাড়ো, কী চাও বলো', তখন তার বাক্যটির মানে দাঁড়ায় - " 'তুমি যে আমার 'ধানা খেয়ে নিই, পানা খেয়ে নিই' করছ, তা বন্ধ করো; ঠিক কী করতে চাও তা স্পষ্ট করে বলো।"

আর, ধান শব্দটিকে যদি বিশেষ্যরূপে দেখি, তবে তার স্বরূপ বুঝতে সাহায্য করে ধান কথাটি। যাওয়া অন থাকে ধান-এ, ধাওয়া অন থাকে ধান-এ। এই 'ধাওয়া আসলে 'ধাবন করা', গ্রাস করার জন্য কেউ যেন হাঁ করে খাদ্যবস্তু-টির পিছনে ছুটেছে। 'যান' যেমন যে কোনও গাড়ি (যাহা গড়ায়) হয়, অর্থাৎ 'স্থানান্তরণের উপায়'কে বোঝায়, 'ধান' তেমনি যে কোনো আধারকে বোঝায়, যে কিনা 'ধারণ করব, ধারণ করব' বলে তার 'ধারণেচ্ছা' নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। তাহলে, দেখা যাচ্ছে, ধান মূলত আধারই বটে; কিন্তু কী রকম আধার?
আমাদের প্রাচীন পুরুষদের কাছে এই প্রশ্নটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে তাঁরা সমস্ত ধানগুলিকে তাদের ক্রিয়ার চরিত্র অনুসারে পৃথকভাবে চিহ্নিত করেছেন।

নিম্নে সেই ধানগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করা হল --
ধান=ধারক অন যাহাতে।
বিধান=বিশেষভাবে বা বিপরীতভাবে ধারক অন যাহাতে।
প্রতিবিধান=বিধান-এর মুখোমুখি উলটো বিধান যাহাতে।
প্রধান=প্রকৃষ্ট-ধারক অন যাহাতে।
অবধান=অব-ধারক অন যাহাতে।
অনবধান= নেই অবধান যাহাতে।
ব্যবধান=বিশেষ বা বিপরীত অবধান যাহাতে।
সাবধান=সহ অবধান যাহাতে।
উপধান=উপ ধারক অন যাহাতে।
সংবিধান=সম্যক ও বিশেষ বা বিপরীত ধারক অন যাহাতে।
সন্ধান=সম্যক ধারক অন যাহাতে।
আধান=আশ্রয়দাতা-ধারক অন যাহাতে।
সমাধান=সম আধান অন যাহাতে।
তিরোধান=তিরস্‌-ধারক অন যাহাতে।
নিধান=নির্গত বা নিহিত ধারক অন

এই বিভাগের আরো খবর

ঘরের ভেতর সবুজের হাতছানি

ডেস্ক প্রতিবেদন: চার দেয়ালের মাঝে বসবাস করতে গিয়ে সবুজের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অনেকাংশে কমে গেছে। অনেকে আবার শখ করে ছাদে বাগান করে থাকে।...

রেগে গেলেন? একদম না!

ডেস্ক প্রতিবেদন: ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’- এই প্রবাদ জানা সত্তে¡ও কখনও কখনও রাগ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিনই হয়ে পড়ে। আসলে রাগের কারণে...

নিজেই বানান ফরেস্ট কেক

ডেস্ক প্রতিবেদন:  ব্লাক ফরেস্ট কেকের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু হোয়াইট ক্রিম ও ভ্যানিলা দিয়ে তৈরি হোয়াইট ফরেস্ট কেকও যেকোন উৎসবে...

মেকআপের ফাউন্ডেশন কিনবেন যেভাবে

ডেস্ক প্রতিবেদন: মেকআপের প্রধান সামগ্রি ফাউন্ডেশন। দোকানে বসে মিলিয়ে কিনলেও বাসায় এসে দেখেন মুখের শেডের সাথে মিলছে না। জেনে নিন ফাউন্ডেশন...

কীভাবে বানাবেন ঝাল দই বেগুন

ডেস্ক প্রতিবেদন: বেগুন খেতে যারা পছন্দ করেন তারা মজাদার দই বেগুন রান্না করে ফেলতে পারেন। পোলাও, লুচি, পরোটা কিংবা রুটির সঙ্গে খেতে পারবেন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is