সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হলেও ব্যবহার খরচ খুব কম আপডেট: ০৪:৩৫, ১৭ মে ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বহু যন্ত্রপাতি আমদানিনির্ভর। ফলে এটি ব্যয়বহুল মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য। তবে ইতিমধ্যে সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারি প্রকল্প গুলোর বাইরে প্রতি বছর প্রায় ছয়শ’ কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে, যা ক্রমেই বাড়ছে।

সৌর বিদ্যুৎ এর সবচেয়ে ক্ষুদ্র ক্ষমতার একটি প্রযুক্তি স্থাপন করতে হলে কমপক্ষে পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকা ব্যায় করা হয়। যার সিংহভাগ অর্থ লাগে আকাশমুখী সোলার প্যানেলের জন্য। তারপর বড় অর্থ যায় ব্যাটারিতে। ব্যয়বহুল সোলার প্যানেল পুরোপুরি আমদানী নির্ভর। সৌর বিদ্যুৎ এর ক্ষুদ্র ইউনিট দিয়ে শুধুমাত্র দুটি বাতি ও দুটি পাখা চলতে পারে। ইতিমধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বান্ধব বাতি পাখা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক উপকরণ দেশের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে শুরু করেছে।

এখন দেশে উৎপাদিত মোট বিদ্যুৎ এর প্রায় তিন শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে। নবায়নযোগ্য মোট ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর মধ্যে ২৩০ মেগাওয়াট আসে কাপ্তাইয়ের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। ১৯৬ মেগাওয়াট আসে সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে। বাকি সামান্য ৪ মেগাওয়াট উৎপাদিত হয় বাতাস, বায়োগ্যাস এবং বায়োমাস ব্যবহার করে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার আরো বাড়ানো নিয়ে রয়েছে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে নানা ভাবনা।

গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আয়োজন করা ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কষ্ট করে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যেতে পারলে এর ব্যবহার খরচ খুবই কম। ফলে এমন বিদ্যুৎ অর্থনীতির উন্নয়নে সহায়ক।

মানুষ ও পশুর বর্জ্যসহ বিভিন্ন পচনশীল জিনিস ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বায়োগ্যাসের উৎপাদন ও ব্যবহার কিছুটা থাকলেও তা নানা কারণে ব্যাপক রূপ নিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি  সহজলভ্য করতে পারলে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে আর্থিক ও অর্থনৈতিক সুফলের পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও হবে ইতিবাচক। 

আরো পড়ুন: 

দুনিয়া জুড়ে চলছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের আন্দোলন 

নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার বেড়েছে 

বিদ্যুৎবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আলোকিত করতে পারে সৌরবিদ্যুৎ