ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫

2019-03-22

, ১৫ রজব ১৪৪০

বাজার এখন ফার্মের মুরগির দখলে

প্রকাশিত: ০৪:৫৩ , ১৫ মে ২০১৭ আপডেট: ০৪:৫৩ , ১৫ মে ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেড় দশক আগেও যে মুরগি ও ডিম দেখে বেশিরভাগ ভোক্তারা মুখ ফিরিয়ে নিত, মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে সেই ফার্মের মুরগি ও ডিম বাজারের পুরো দখল নিয়েছে। সারাদেশে মুরগি ও ডিমের যে চাহিদা ও বাণিজ্য তাতে পুরানো দেশী জাতের অবস্থান খুঁজে পাওয়াই কঠিন। অন্যদিকে ফার্মের মুরগি ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধির গতি এতটাই বেশী যে উদ্যোক্তারা তৈরী পোশাক শিল্পের সাথে তাদের বিকাশকে তুলনা করছেন।

শুধু গ্রামের নয়, নগর- শহরেও দুদশক আগে ঘরে ঘরে পুরানো দেশী জাতের মুরগি পালনের চল ছিলো। ডিম ও মাংস থেকে প্রোটিনের উৎসও ছিলো ঘরে পালা মোরগ- মুরগি। দেশে কাঁচা বাজারগুলোতেও খাঁচা ভর্তি দেশী মোরগ মুরগির জোগান ছিলো। আশির দশকে যখন প্রথম ফার্মের মুরগি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় তার প্রতি এক ধরনের অগ্রহণযোগ্যতার মনোভাব ছিলো ভোক্তাদের। ফলে ফর্মের মুরগি ও ডিমকে বাজারে জায়গা করে নিতে বহু বছর নানা কঠিন বাস্তবতা পেরোতে হয়েছে।

সেই কঠিন বাস্তবতার চিত্র ধীর গতিতে পাল্টালেও গত ১৫ বছরে ফার্মের মুরগি ও ডিম দেশের সমস্ত বাজার, সুপারস্টোর, জেনারেল স্টোর, হোটেল- রেস্টুরেন্টে একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তুলেছে। ঘন বসতিপূর্ণ ১৬ কোটি মানুষের প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদার বড় অংশ একক ভাবে এখন ফার্মের মুরগি ও ডিম পূরণ করছে।

১৯৪৭ সালে গাজীপুরে ৬টি খামার তৈরীর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথম ফার্মের মুরগির চাষ শুরু হয়। সেখানে আজকের মত ব্যাপক পরিকল্পিত বাণিজ্যের চেহারা ছিলো না, যা শুরু হয় তিনদশক আগে থেকে। শুরুতে গ্রামে গ্রামে বেকার যুবকদের উৎসাহিত করা হতো পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তুলতে। এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য উদ্যোক্তার প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ফার্মের মুরগি ও ডিমের চাষ একসময় শিল্পের রূপ ও মর্যাদা পায়।

দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ছে প্রোটিনের চাহিদা। ফলে বড় হচ্ছে ফার্মের মুরগি ও ডিমের বাণিজ্য। তবে যথাযথ মান সম্পন্ন ও স্বাস্থ্যকর ফার্মের মুরগি ও ডিম নিশ্চিত করা এই শিল্পের পুরানো আলোচিত বিষয়।

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is