প্রবীণদের সুখস্মৃতি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য বায়োস্কোপ

প্রকাশিত: ০৯:১৩, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আপডেট: ১২:৩০, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যের নাম বায়োস্কোপ। হাত দিয়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে দর্শনীয় স্থান, কিংবা বিভিন্ন চিত্র কর্মের ছবি দেখানো হতো এই বায়োস্কোপে। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয়সব কাহিনী ও কাল্পনিক চিত্রও দেখানো হতো এই মাধ্যমে। মুড়ির টিনের মতো একটি বাক্সের কাচের জানালায় চোখ রাখলেই ছবি আর কন্ঠের বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে উঠতো এক অজানা পৃথিবী।

চোখ ধাঁধাঁনো আধুনিকতার এমন সময়েও গ্রামীণ জনপদে বায়োস্কোপ দেখতে মানুষের ভীড়   চোখে পড়ে। এই প্রজন্মতো বটেই, এখনো বায়োস্কোপ দেখতে বসে যান প্রবীনরাও।

চার কোনা একটি টিনের বাক্সে গোলাকৃতি ৪ থেকে ৬টি কাচের জানালা। তার মধ্যে দেশ বিদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, রাজা বাদশা, জনপ্রিয় নায়ক নায়িকা, বিভিন্ন ধর্মীয় পবিত্র স্থাপনা, মৃত্যুর পরের নানা কাল্পনিক কাহিনীর ৩৫ থেকে ৪০টি ছবি জোড়া দিয়ে লাগানো হয়। বাক্সের মধ্যে দুই পাশে দুটি ঘুড়ির লাটাইয়ে তা পেচিয়ে প্রদর্শন করা হয়। বাইরে থেকে স্বচ্ছ কাচের ওপর চোখ রাখলে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যতে হয় দর্শকদের।

বিনোদনের এই মাধ্যমটি আমাদের দেশে বায়োস্কোপ নামে অধিক পরিচিতি পেলেও ইংরেজিতে একে পিপ শো বলে অভিহিত করা হয়। যার অর্থ উঁকি দিয়ে দেখা। জানাযায়, পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরোপের একটি দেশের রাস্তা দিয়ে এক নগ্ন নারীর হেটে যাওয়র দৃশ্য বদ্ধ ঘরের ছিদ্র দিয়ে দেখেন এক লোক। ছিদ্র দিয়ে দেখার সেই ধারণা থেকেই পরবর্তিতে তৈরী হয় পিপ-শো বা বায়োস্কোপের বাক্স। ইউরোপে ১৫ থেকে ১৭ শতাব্দীতে বায়োস্কোপ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৯৪ সালের পর এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপি এর প্রদর্শনী শুরু হয়। অনেকে বায়োস্কোপকে চলচ্চিত্র আবিস্কারের পূর্ব রুপ বলে ধারণা করেন।

উপমহাদেশে চলচ্চিত্রের জনক মানিকগঞ্জের হীরালাল সেন অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তার এলাকায় বায়োস্কোপ প্রদর্শন করেন।

স্বাধীনতার আগে ভারত থেকে আঁতশী কাচ এনে টিন আর কাঠ দিয়ে এসব বায়োস্কোপ তৈরী করে গ্রামে-গঞ্জের আর মেলায় প্রদর্শন করতো একদল মানুষ। অনেকে এই বায়োস্কোপ প্রদর্শনের আয় দিয়ে সংসার চালাতেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

স্কোয়াশ খেলার কোর্ট তৈরি করতে পারেনি 

এস.এম সুমন: প্রতিষ্ঠার পর ৪৪ বছরে...

বিস্তারিত
স্কোয়াশ খেলা: প্রতিযোগিতা হয় কালেভদ্রে

এস.এম সুমন: পশ্চিমা দেশগুলোর আদলে...

বিস্তারিত
রোয়িং খেলোয়াড় ও সংগঠকরা হতাশ

তৌহিদুল আলম: নিজেদের খেলা চর্চা করারই...

বিস্তারিত
রোয়িং: মনের টানে খেলেন ক্রীড়াবিদরা 

তৌহিদুল আলম: আর্থিক সঙ্কট ও পর্যাপ্ত...

বিস্তারিত
রোয়িং: ৪৫ বছরেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই 

তৌহিদুল আলম: প্রতিষ্ঠার  ৪৫ বছর...

বিস্তারিত
রোয়িং: খেলাটি সম্পর্কে ধারণা প্রতিষ্ঠা হয়নি

তৌহিদুল আলম: পশ্চিমা দেশগুলোর আদলে...

বিস্তারিত
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শরীরগঠন ফেডারেশন

ইমদাদুল্লাহ বাবু: সরকার জনগণের প্রায়...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *