ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-18

, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

শতবর্ষের মধ্যেই পৃথিবী অবাসযোগ্য হবে, হকিং-এর ভবিষ্যদ্বাণী

প্রকাশিত: ০৯:৩৪ , ০৪ মে ২০১৭ আপডেট: ০৯:৩৪ , ০৪ মে ২০১৭

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্ব উষ্ণায়ন, পারমাণবিক যুদ্ধ, গ্রহাণু পতন-- এমন আরো কিছু কারণ রয়েছে যার জন্য পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকাটাই দুষ্কর হয়ে উঠবে। আবহাওয়ায় প্রতিনিয়ত যে-পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তা-ও ক্ষতি করবে মানুষের।

আর মেরেকেটে ১০০ বছর। তার মধ্যেই যা করার করতে হবে নিজেদের বাঁচানোর জন্য। কারণ, পৃথিবীর বুকে যে-হারে বাড়ছে জনসংখ্যা, তাতে আগামী ১০০ বছরের মধ্যে কোনো সুপরিকল্পিত ভাবনা না থাকলে, সম্পূর্ণ মানবজাতিই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।

সম্প্রতি, ‘টুমোরোজ ওয়ার্ল্ড’ নামে বিবিসি-এর এক বিজ্ঞান অনুষ্ঠানেই এমন সাবধানবাণী শুনিয়েছেন স্টিফেন হকিং, যাঁর পারদর্শিতা মূলত ‘কোয়ান্টাম ফিজিক্স’ নিয়ে।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং, নিউক্লিয়ার ওয়ার, গ্রহাণু পতন, আরও এমন কিছু কারণ রয়েছে যার জন্য পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকাটাই দুষ্কর হয়ে উঠবে। আবহাওয়ায় প্রতিনিয়ত যে পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তা-ও ক্ষতি করবে মানুষের।

৭৬ বছরের বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিংস, বিবিসি-র ওই অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে, তাঁর এক ছাত্র ক্রিস্টফ গ্যালফার্ডকে নিয়ে তিনি এবার বিশ্বভ্রমণে বেরবেন। মহাকাশে কী ভাবে জীবন বেঁচে থাকবে, তার হদিশ জানতেই এই ভ্রমণ। 

হকিং বলেছেন, হাতে আর খুব বেশি সময় নেই আমাদের। খুব তাড়াতাড়ি এই পৃথিবীটা আমাদের ছেড়ে যেতেই হবে, প্রাণে বাঁচতে। আর বড় জোর একশোটা বছর। তার মধ্যেই হইহই রইরই করে আমাদের চলে যেতে হবে অন্য কোনো গ্রহে। গিয়ে বসবাস শুরু করে দিতে হবে। কারণ, তার পর এই ধরণী আর আমাদের ধরে রাখতে পারবে না। গোটা পৃথিবীটাই কার্যত বিরান হয়ে যাবে। বিবিসি-র নির্মীয়মাণ ডকুমেন্টারি ‘এক্সপেডিশান নিউ আর্থ’-এ ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাদপ্রতিম বিজ্ঞানী।

বাজি ধরা আর ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য বিখ্যাত হকিং কথাটা এর আগেও বলেছিলেন দু’-এক বার। এ বার বলেছেন, আরও স্পষ্টভাবে। আর বলতে হয় বলেই কথাটা বলেছেন, এমনটাও নয়। তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে বেশ কয়েকটি যুক্তিও দিয়েছেন হকিং। দেখিয়েছেন বেশ কয়েকটি কারণ।

তাঁর কথায়, ‘‘জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত, খুব দ্রুত। আর আগামী দিনে সেই রদবদলটা হবে আরও দ্রুত হারে। আরও বেশি করে। ভয়ঙ্কর ভাবে বেড়ে যাবে উষ্ণায়ন। বেড়ে যাবে সমুদ্রের জলস্তর। একের পর এক আছড়ে পড়তে শুরু করবে বিশাল বিশাল গ্রহাণু। শুরু হয়ে যাবে নানা রকমের মহামারী। অসম্ভব রকম বেড়ে যাবে জনসংখ্যার চাপ। এই ধরণী তখন হয়ে উঠবে আমাদের বধ্যভূমি। এই একশো বছরের মধ্যে অন্য কোনও গ্রহে আমরা আমাদের বসবাসের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিতে পারলে আধুনিক মানুষের ‘হোমো সাপিয়েন্স সাপিয়েন্স’ প্রজাতি একেবারেই মুছে যাবে। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’’

বিবিসি-র ওই নির্মীয়মান ডকুমেন্টারিতে হকিংয়ের সঙ্গে রয়েছেন আরও এক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড্যানিয়েল জর্জ। যিনি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ান ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। রয়েছেন হকিংয়ের প্রিয় ছাত্র ক্রিস্টোফে গ্যালফার্ডও। কী ভাবে অন্য সৌরমণ্ডলের ভিনগ্রহে আমাদের বসবাসের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিতে পারা যায়, সে সম্পর্কে তাঁদের মতামতও থাকছে ওই ডকুমেন্টা

এই বিভাগের আরো খবর

এবার উড়ন্ত বাইকে অপরাধী ধরবে পুলিশ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: অপরাধীদের ধরতে তাদের গাড়িতে পেছনে পেছনে সমান তালে পাল্লা দিতে হবে না আর পুলিশ অফিসারের। বাইক এবার গাড়ির ওপর দিয়ে...

ঢেকুর তোলা যায় না মহাকাশে

ডেস্ক প্রতিবেদন: পৃথিবীতে এমন অনেক কাজ করা যায়, যা যা মহাকাশে করা যায় না। মহাকাশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে অনেক অদ্ভুত প্রশ্নের মুখোমুখি...

গ্যালাক্সি জে৪ কোর আনলো স্যামসাং

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: দ্বিতীয় অ্যান্ড্রয়েড গো স্মার্টফোন গ্যালাক্সি জে৪ কোর উন্মোচন করেছে স্যামসাং। এর আগে গ্যালাক্সি জে২ কোর নামে প্রথম...

সূর্যের খুব কাছাকাছি সোলার প্রোব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: সূর্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে নাসার মহাকাশযান সোলার প্রোব। আজ পর্যন্ত মানুষের পাঠানো কোনও যান সূর্যের এতটা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is