ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫

2018-11-14

, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

নাইন ইলেভেন: যেদিন বদলে গেল পৃথিবী

প্রকাশিত: ১১:৩৪ , ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ১১:৩৪ , ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পৃথিবী বদলে যাওয়া ঐতিহাসিক নাইন ইলেভেন আজ। ১৭ বছর আগের এই দিনে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আত্মঘাতী বিমান হামলা চালায় ঘটায় জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদা। প্রাণহানি হয় অন্তত ৩ হাজার মানুষের। ভয়াবহ সেই হামলায় আহত হয়েছিলেন আরও ৬ হাজার মানুষ। যাঁরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন, তাঁদের জীবনে নাইন-ইলেভেন হয়ে আছে দগদগে ঘায়ের মতো। ভয়াবহ সেইদিনকে স্মরণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জঙ্গি হামলার হুমকি থেকে এখনও নিরাপদ নয় যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সবসময়ই আমেরিকা সক্রিয় থাকবে। 

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ছিনতাই করা যাত্রীবাহী দুটি উড়োজাহাজের অবিশ্বাস্য আঘাতে ধসে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, নিভে যায় হাজার হাজার প্রাণ। স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা অবসানের ১০ বছরের মাথায় ফের অস্থির হয়ে পড়ে বিশ্বরাজনীতি, বদলে যায় সমগ্র প্রেক্ষাপট। আফগানিস্তানে শুরু হয় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসন। এরপর একে একে ইরাক, লিবিয়া। সেই যে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের আমেরিকার যুদ্ধ হয় তা আর শেষ হওয়ার কোনো আলামত এখনও পাওয়া না। 

১৭ বছর আগে এই দিনে টুইন টাওয়ারে দুটি উড়োজাহাজের আঘাত হানার দৃশ্য টিভির পর্দায় দেখে বিশ্ববাসী চমকে গিয়েছিল। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রস্থল সেরা পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রে এমন ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা দুই চোখে টেলিভিশন ক্রিনে দেখেও যেন বিশ্বাস করতে পারছিল  না বিশ্ববাসী। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক কেন্দ্রে কেউ হামলা করতে পারে এবং দম্ভভরে তার দায় স্বীকার করতে পারে যা ১১ সেপ্টেম্বরের আগে কল্পনা করার দুঃসাহস করেনি। অথচ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন সেটিই করলেন।

এখনও হামলার ব্যাপারে রহস্য অজানাই রয়ে গেছে। আল কায়দা এ হামলার দায় স্বীকার করলেও সব বিশ্লেষক কিন্তু আল কায়দার দাবিও খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেন না। আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক ও ওসামা বিন লাদেনের খোঁজে আরেক মহাদেশে মার্কিন জঙ্গি বিমানের ওড়াউড়ি শুরু হলেও একদা যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে থাকা গুরুতর অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি। ২০০৪ সালে প্রকাশিত নাইন-ইলেভেনের ঘটনার তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুইন টাওয়ারে হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স বানদারের যোগসূত্র ছিল। পর্দার আড়ালে থেকে হামলার পেছনে সত্যিকার অর্থেই কারা জড়িত ছিল তা নিয়ে বহু তর্ক-বিতর্ক হয়েছে এ ১৭ বছর ধরেই।

হামলার প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসী তথা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। জড়িয়ে পড়ে আগ্রাসন নীতিতে, যাতে করে বিগত ১৭ বছরে তুমুল সমালোচিত হয়েছে দেশটি। নাইন ইলেভেনের পর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আদর্শগত অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সঠিক পথে এগিয়েছিল এমনটি বিশ্বাস করা মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে নেহায়েতই কম। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন নীতি আবর্তিত হতে থাকে সাম্রাজ্যবাদকে ঘিরেই। বিশেষ করে দেশটি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়  ইরাক আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে। বিশ্বমানবতার জন্য হুমকি এমন কোনো মারণাস্ত্রের সন্ধান ইরাকে না মিললেও মার্কিনি আগ্রাসনে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায় ব্যাবেলিয়নের প্রাচীন সভ্যতার উত্তরসূরি এ জাতিটি।    
 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is