ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-21

, ১০ মহাররম ১৪৪০

শিশুর প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে কী করবেন?

প্রকাশিত: ০৩:৩৫ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০৩:৩৫ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: শরীরে কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও পানি শুষে নিয়ে ইউরিন তৈরি করে। প্রতিদিন এই ইউরিন বের হয়ে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কিডনি থেকে বেরিয়ে ইউরিন এক সরু টিউবের মধ্যে দিয়ে ইউরিনারি ব্লাডারে জমা হয়। ইউরিনারি ট্র্যাক্টে এমনিতে কোনো ব্যাক্টেরিয়া থাকে না। কোনো কারণে ব্যাক্টেরিয়া ব্লাডারে ঢুকে গেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ইনফেকশন হতে পারে। এছাড়া, ব্যাক্টেরিয়া কোনোভাবে কিডনিতে ঢুকে গেলে ইনফেকশন হতে পারে। সাধারণত অ্যানাস বা ভ্যাজাইনার আশপাশে এ ধরনের ব্যাক্টেরিয়া পাওয়া যায়। ফলে কিডনিতে ইনফেকশন হতে পারে।
অনেক শিশুর মধ্যে জন্ম থেকেই ভেসিকোইউরেটেরাল রিফ্লাক্স বলে এক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যায় ইউরিন ব্লাডার থেকে বেরিয়ে ইউরেটার হয়ে আবার কিডনিতে পৌঁছে যায়। ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকটেড হয়ে পড়ে। এছাড়া, মায়েলোমেনিঙ্গোসিল, হাইড্রোসেফালসের মতো ব্রেন বা নার্ভাস সিস্টেমের অসুখ থাকলে ব্লাডার পুরোপুরি খালি হতে পারে না। স্পাইনাল কর্ডে চোট লাগলেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। এর থেকে ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ইনফেকশন হয়। তবে, শিশুর জন্ম থেকেই যদি ইউরিনারি ট্র্যাক্টের গঠনে কোনো ত্র“টি থাকে, তা হলে ব্যাক্টেরিয়া সহজেই ইউরিনারি ট্র্যাক্টকে ইনফেক্টেড করে দিতে পারে।
উপসর্গ: ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ইনফেকশন হলে ব্লাডার ইউরেথ্রা, ইউরেটার ও কিডনিতে অস্বস্তি (ইরিটেশন) হয়। ঠিক যেমন ঠাণ্ডা লাগার পর নাক ও গলায় ইরিটেশন হয়। যেহেতু বাচ্চারা সব সময় বলে বোঝাতে পারে না, তাই বাচ্চার ব্যবহারে যদি হঠাৎ পরিবর্তন দেখেন, তা হলে বুঝবেন যে বাচ্চার শরীরে কোনো অস্বস্তি হয়ে থাকতে পারে।

ইউটিআই হলে সাধারণত কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা যায়: ১. জ্বর হতে পারে, বাচ্চা অকারণে বিরক্তি প্রকাশ করে, খেতে চায় না, বমি করে। ২. ইউরিনে দুর্গন্ধ হতে পারে। ৩. বার বার বাথরুম যেতে হয়। বাথরুম করার সময় ব্যথা হতে পারে বা জ্বালা করতে পারে। ৪. তলপেটে বা পিঠের নিম্নাংশে ব্যথা হয়। ৫. অনেক সময় ইউরিনে রক্ত বেরুতে পারে। ৬. টয়লেট ট্রেনিং থাকলেও বাচ্চা ইউরিন কন্ট্রোল করতে পারে না, অনেক সময়ই বিছানা ভিজিয়ে ফেলে।
কিডনিতে ইনফেকশন ছড়িয়ে গেলে: ১. বাচ্চার কাঁপুনি হতে পারে। ২. খুব বেশি জ্বর আসে। ৩. ত্বক লাল হয়ে যায়। ৪. মাথা ঘোরে, বমি হয়। ৫. পাঁজরে ব্যথা হতে পারে।
প্রতিরোধ: আপনার শিশুকে বেশি বাবল বাথ করতে দেবেন না। ঢিলেঢালা অন্তর্বাস ও জামাকাপড় পরা ভালো। শিশু যাতে প্রচুর পরিমাণ পানি খায় সেদিকে নজর দেবেন। শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার গুরুত্ব বোঝান। বাথরুম করার পর জেনিটাল পরিষ্কার করা জরুরি। শিশুকে দিনে একাধিকবার বাথরুম যাওয়া শেখান।
রোগ নির্ণয়: ইউরিনের স্যাম্পল টেস্ট করা হয়। কেন ইনফেকশন হয়েছে বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না দেখার জন্য কিডনির আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। এ ছাড়া ইউরিনেশনের সময় বিশেষ পদ্ধতি দ্বারা এক্স-রে করা হয়। বাচ্চার মেডিকেল হিস্ট্রি নেওয়া হয়। ডাক্তাররা জানতে চান বাচ্চার বয়স কতো, আগে কখনো ইনফেকশন হয়েছে কি না, ইনফেকশন কতটা জটিল, বাচ্চার আর কোনো অসুখ আছে কি না, স্পাইনাল কর্ড বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে কোনো সমস্যা আছে কি না। এর ওপর নির্ভর করে ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নেন যে, চিকিৎসার ধরন ঠিক কী রকম হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

খুশকি থেকে বাঁচুন

ডেস্ক প্রতিবেদন: চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে খুশকি একটা বিরাট সমস্যা। অত্যধিক চুল ঝরা, রুক্ষ চুল, বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাল্প ইনফেকশন জন্য...

এসিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ডেস্ক  প্রতিবেদন: গরমের প্রখর তাপ থেকে মুক্তি পেতে এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের তুলনা নেই। অফিসে ৮-৯ ঘণ্টা টানা সেন্ট্রাল এসি'তে থাকতে থাকতে...

সাংবাদিক রইসুল বাহার আর নেই

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক আ ক ম রইসুল হক বাহার আর নেই। মঙ্গলবার- ১৮ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত ১১টায় হৃদযন্ত্রের ক্রীড়া বন্ধ...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is