ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-19

, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচন করলেন বাকৃবি’র গবেষকরা

প্রকাশিত: ১২:৪৩ , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০৯:০৬ , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথমবারের মতো উন্মোচন হয়েছে ইলিশ মাছের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য। বাংলাদেশের গবেষকরা ইলিশ মাছের জীবন রহস্য উন্মোচন করেছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে।  

শনিবার সকাল নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এতথ্য জানান পূর্ণাঙ্গ ইলিশ জিনোম সিকোয়েন্সিং ও অ্যাসেম্বলি টিমের সমন্বয়ক ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম।

বাংলাদেশ ইলিশের ভৌগোলিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর দেশীয় ইলিশের রেফারেন্স জিনোম প্রস্তুতকরণ, জিনোমিক ডাটাবেজ স্থাপন এবং মোট জিনের সংখ্যা নির্ণয় করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের দিকে এই গবেষণা শুরু করেন বাকৃবির গবেষকরা। তারই ফলশ্র“তিতে বেরিয়ে আসে ইলিশ মাছের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য।

ড. মো. সামছুল আলম  বলেন, জিনোম হচ্ছে কোনো জীবের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জীবের জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াসহ সব জৈবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় জিনোম দ্বারা। ইলিশের জিনোমে ৭৬ লাখ ৮০ হাজার নিউক্লিওটাইড রয়েছে, যা মানুষের জিনোমের প্রায় এক চতুর্থাংশ। ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স জানার মাধ্যমে অসংখ্য অজানা প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে খুব সহজেই।

বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে ইলিশের মাছের বিস্তৃতির পরিসীমা কত এবং দেশের পদ্মা, মেঘনা নদীর মোহনায় প্রজননকারী ইলিশগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্টক কিনা তা জানা যাবে এই জিনোম সিকোয়েন্সর মাধ্যমে। বছরে দুইবার ইলিশ প্রজনন করে থাকে। জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে এই দুই সময়ের ইলিশ জিনগতভাবে আলাদা কিনা তা জানা যাবে। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট নদীতে জন্ম নেওয়া পোনা সাগরে যাওয়ার পর বড় হয়ে প্রজননের জন্য আবার একই নদীতেই ফিরে আসে কিনা সেসব তথ্যও জানা যাবে এই জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে। 
 
তিনি আরও বলেন, এরকম নতুন নতুন তথ্য উন্মোচনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে ইলিশের টেকসই আহরণ। ইলিশের জন্য দেশের কোথায় কোথায় ও কতটি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। দেশীয় ইলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের (ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য) ইলিশ থেকে জীনতাত্ত্বিকভাবে স্বতন্ত্র কিনা তাও নিশ্চত হওয়া যাবে। 


পূর্ণাঙ্গ ইলিশ জিনোম সিকোয়েন্সিং ও অ্যাসেম্বলি টিমের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা, বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম ও ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান। 

জাতীয় মাছ ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং এর গবেষণা কাজটি গবেষকদের নিজস্ব উদ্যোগ, শ্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারস্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলদেশের মৎস্য সেক্টর পূর্ণাঙ্গ জিনোম গবেষণার যুগে প্রবেশ করেছে বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

এই বিভাগের আরো খবর

কুষ্টিয়ায় গোলাগুলিতে ডাকাত নিহত 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দুই দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলিতে এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার হাওয়াখালী...

সাভারে আগুনে পুড়লো শ্রমিক কলোনি

সাভার প্রতিনিধি : সাভারে আগুন লেগে ৩টি শ্রমিক কলোনির অন্তত ৫০টি সেমি পাকা কক্ষ ও কক্ষে থাকা মালামাল পুড়ে গেছে। রাতে ভাগলপুর মহল্লার আলমগীর...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is