ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-21

, ১০ মহাররম ১৪৪০

আলোয় এলো বঙ্গবন্ধুর ওপর গোয়েন্দা প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ০৬:৫০ , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০৭:০২ , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাকিস্তানি আমলের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সঙ্কলিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর গোয়েন্দা বিভাগের গোপন দলিল) শিরোনামে ১৪ খণ্ডের বইয়ের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শুক্রবার গণভবনে বিকেলে বইটির প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে মোড়ক উন্মোচন করেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করতো পাকিস্তানের ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি)। দীর্ঘ ২৩ বছরের সেইসব গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৪ খণ্ডের এই সঙ্কলন প্রকাশ করছে হাক্কানী পাবলিশার্স।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, তার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

অন্যদের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) দায়িত্বপালনের সময় এসব গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগ্রহে সহায়তাকারী বর্তমান পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান, হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশক গোলাম মোস্তফা।

এছাড়া প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক আইিজপি এ কে এম শহীদুল হক, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনার, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি  অতিথি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নানা শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। তরুণ শেখ মুজিব নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে কেমন করে বাংলার অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হলেন-সেই পথচিত্র যেমন এই বইয়ে এসেছে, সেই সঙ্গে এসেছে বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে চলার মানচিত্র। এসব কারণে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সঙ্কলনকে বিশেষজ্ঞরা বর্ণনা করছেন ‘অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে।

১৪ খণ্ডের সঙ্কলনে ভাষা আন্দোলন, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তকরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন, আওয়ামী লীগের জন্ম, শেখ মুজিবুর রহমানের চিঠিপত্র, বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ, বক্তব্য-বিবৃতি, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের বিষয়গুলো উঠে এসেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের বয়ানে।

ইংরেজি ভাষায় লেখা পুরনো এসব নথি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) রেকর্ড রুমেই পড়ে ছিল অযতœ আর অবহেলায়। বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে সেসব নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন এবং ৬০৬-৪৮ ফাইল নম্বর দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে যেসব ক্লাসিফায়েড তথ্য সেখানে ছিল, সেগুলোর পাঠোদ্ধার ও সঙ্কলিত করার ব্যবস্থা করেন।

‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে। ৫৮২ পৃষ্ঠার প্রথম খণ্ডের দাম রাখা হয়েছে ৯০০ টাকা। একই নকশায় প্রতিটি খণ্ডের প্রচ্ছদ করেছেন সমর মজুমদার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শত চেষ্টা করেও জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। তার আত্মত্যাগের কারণেই এই নাম আজ বিশ্বে সমুজ্জ্বল। 

তিনি বলেন, এই সংকলেন মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে জনগণ। ছাত্র জীবন থেকেই বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান।পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিদিনই তার কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করতো।

শেখ হাসিনা বলেন, এর মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানবে জাতি ও বিশ্ব। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের কারণ ছিল শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। প্রতিটি স্তরে বৈষম্যের কথা তুলে ধরার কারনণ তার বিরুদ্ধে বৈরী ছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা।

শেখ হাসিনা বলেন, শত চেষ্টা করেও ইতিহাস থেকে জাতির জনকের নাম মুছে ফেলা সম্ভব না। বাংলাদেশের ইতিহাস পড়তে গেলে জাতির জনকের নাম আসবেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা শুধু ভোগ করবার বিষয় না, এটা একটা দায়িত্ব৷ সরকার চায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে সবাইকে একহয়ে কাজ করতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

এই বিভাগের আরো খবর

গণমাধ্যমের হাত-পা বাঁধতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি...

সলঙ্গায় ককটেলসহ বিএনপি-জামায়াতের চার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ককটেলসহ বিএনপি-জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সলঙ্গা থানার...

খালেদার অনুপস্থিতিতেই দাতব্য ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন...

চাঁদে যাচ্ছেন জাপানি ধনকুবের

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: চাঁদে ভ্রমণের জন্য স্পেসএক্স প্রথম যাত্রীর নাম ঘোষণা করেছে। আর তিনি হলেন জাপানি ধনকুবের ইয়াসাকু মাইজাওয়া।...

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে- সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগনের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করার ফলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সমৃদ্ধশালী হচ্ছে। সংসদে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is