ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-19

, ৮ মহাররম ১৪৪০

ক্যানসার জিন মুছে সুস্থ শিশুর জন্ম মুম্বাইয়ে

প্রকাশিত: ০৩:২৮ , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০৩:২৮ , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: ক্যানসারের জিন মুছে দিয়ে সুস্থ শিশুর জন্ম দিয়ে অসাধ্য সাধন করল মুম্বাইয়ের হাসপাতাল। মায়ের শরীরে ক্যানসারের জিন ছিল। ‘জিন এডিটিং’-এর সাহায্যে সেই মায়ের গর্ভ থেকে  জন্ম নিল সুস্থ যমজ সন্তান।

বেঙ্গালুরুর স্বয়ম প্রভা। স্বয়ম প্রভার মা, দুই মাসি এবং এক মামা ক্যানসারে আক্রান্ত। ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছে তাঁর দুই মাসিরই। আট বছর আগে স্বয়ম প্রভা জানতে পারেন যে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিআর সিএ-১ মিউটেশন রয়েছে তাঁরও। কিন্তু নিজের সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মকে ক্যানসার থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন মা। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে নিজের সন্তানদের জন্মমুহূর্ত থেকেই ক্যানসার জিন মুক্ত করতে চেয়েছিলেন তিনি।

স্বামী দেবাশিস পাণিগ্রাহীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি মুম্বইয়ের যশলোক হাসপাতালে ভর্তি হন। এই প্রসঙ্গে আমেরিকার হেনরিফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক পারিজাত সেন জানান, সাধারণত মায়ের থেকে সন্তানের শরীরে এই ক্যানসার জিন আসে। কিন্তু প্রি-ইমপ্ল্যানটেশন জেনেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করায় এক্ষেত্রে ওই মহিলার সন্তান ক্যানসার জিন মুক্ত।

মুম্বাইয়ের আইভিএফ (ইনভিট্রো ফার্টিলিটি) বিশেষজ্ঞ ফারুজা পারিখ বলেন, ভারতে এই ধরনের চিকিৎসায় প্রথমবার সাফল্য মিলল বলেই মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকার অ্যাবভিয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষক কৌশাম্বী রায় সরকার বলেন, ‘‘প্রথমে হরমোনাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে অনেকগুলি এগ তৈরি করা হয়। তারপর একটি শুক্রাণুকে (স্পার্ম সেল) পরিণত এগগুলির সাইটোপ্লাজমে ইনজেকশনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা হয়। ইনকিউবেশনের পর ব্লাস্টোসিস্ট দশায় ভ্রূণের বায়োপ্সি করা হয়। এরপরই জেনেটিক অ্যানালিসিস করে জানা যায়, কোন ভ্রুণে মিউটেশন রয়েছে। এরপর যেগুলিতে বিআরসিএ মিউটেশন নেই, সেই ভ্রূণগুলিই স্থানান্তরিত করা হয় স্বয়ম প্রভার দেহে।

বছর কয়েক আগে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির দেহে বিআরসিএ ওয়ান এবং বিআরসিএ টু মিউটেশন ধরা পড়েছিল। যার ফলে তাঁর ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানান চিকিৎসকরা। এর পর নিজের স্তন ও ডিম্বাশয় অস্ত্রোপচার করে বাদ দিয়ে দেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু স্বয়ম প্রভার ক্ষেত্রে কোনওরকম রিমুভাল সার্জারির প্রয়োজন হয়নি। তাঁর ক্ষেত্রে একটাই মিউটেশন ছিল, তাই প্রি-ইমপ্ল্যানটেশন জেনেটিক পদ্ধতির মাধ্যমে ছয়টি ভ্রূণকে আইভিএফ পদ্ধতির জন্যে বেছে নেওয়া হয়। এভাবেই দুই সদ্যোজাতকে ক্যানসার কোষ মুক্ত করে সুস্থ ভাবে জন্ম দিয়েছেন স্বয়ম প্রভা।

এই বিভাগের আরো খবর

কীভাবে বানাবেন নারকেলের নাড়ু

 ডেস্ক প্রতিবেদন: বাঙালির ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার নারকেলের নাড়ু। বিভিন্ন ধরনের নাড়ুর মধ্যে নাারকেলের নাড়ু– বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন উৎসবে...

প্রথম জিমে যাওয়ার প্রস্তুতি

ডেস্ক প্রতিবেদন: নিয়মিত ব্যায়াম একজন মানুষকে অনেকটাই সুস্থ রাখতে পারে। নগরজীবনে ব্যায়াম করার জন্য উন্মুক্তস্থান নেই বললেই চলে। এজন্য...

‘চিকেন ফরচা’ কি

ডেস্ক প্রতিবেদনঃ  চিকেন ফরচা একটি সুস্বাদু পার্সি খাবার। যেকোনো ডিনার পার্টি বা অনুষ্ঠানের জন্য এই খাবারটি খুবই জনপ্রিয়। এই সুস্বাদু...

হঠাৎ অজ্ঞান

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাড়িতে বা অফিসে হঠাৎ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়লে রীতিমতো হুলুস্থুল শুরু হয়ে যায়। কেউ মাথায় পানি ঢালতে থাকে, কেউ পায়ের তালুতে তেল...

রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন!

ডেস্ক প্রতিবেদন: ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’- এই প্রবাদ জানা সত্ত্বেও কখনও কখনও রাগ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিনই হয়ে পড়ে। আসলে রাগের কারণে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is