ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-24

, ১৩ মহাররম ১৪৪০

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিচার সম্ভব

প্রকাশিত: ১২:০২ , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ১২:০২ , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে। হেগভিত্তিক আইসিসির তিন বিচারকের প্যানেল বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে জানায় রয়টার্স।

এই আদেশের ফলে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক এই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আইসিসির কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদার মামলা করার পথ খুললো; যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা তিনি করেননি।

মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে কি না,  তা জানতে চেয়ে ফাতোও বেনসুদা গত এপ্রিলে আবেদন করেছিলেন।

মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হলেও এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে ২৭ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

মিয়ানমার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব না দিলেও তাদের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেনসুদার আবেদন সারবত্তাহীন এবং তা খারিজ করে দেওয়া উচিৎ।

বিচারকদের সিদ্ধান্ত উদ্ধৃত করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হলেও বাংলাদেশ সদস্য এবং আন্তঃসীমান্তে সংঘটিত এই অপরাধের প্রকৃতি বিচারযোগ্য।

তিন বিচারকের প্যানেলের লিখিত আদেশে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিচারের এখতিয়ার এই আদালতের রয়েছে। কেননা এই ঘটনায় সংঘটিত অপরাধ সীমান্ত পেরিয়ে সদস্য দেশ বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়েছে।’

১১ লাখ শরণার্থীর ভার বহনকারী বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করার জন্য দেশটির উপর এই ধরনের চাপ বাড়ার প্রত্যাশা করছিল। আইসিসি গত মে মাসে বাংলাদেশকেও চিঠি দিলে সরকারের পক্ষ থেকে মতামত জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
গত বছরের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটতে থাকে। নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মুখে উঠে আসে ধর্ষণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগের কথা। 

জাতিসংঘ শুরু থেকে একে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। এক মাস আগে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন তাদের প্রতিবেদনে বলে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে। এজন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও পাঁচজন জেনারেলের বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ।

মিয়ানমার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে গত এক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারের নিন্দার ঝড় বইছে। সমালোচনার সম্মুখীন দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী সু চিও।

এই বিভাগের আরো খবর

মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের অধিকার জাতিসংঘের নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই বলে দাবি করেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র...

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী সোলিহ’র জয় 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালদ্বীপের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা সত্ত্বেও নির্বাচনে অভাবনীয় জয় পেয়েছেন বিরোধী...

ভারতে চালু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে ভারত। এই বীমা প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা সেবা পাবে পঞ্চাশ কোটি...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is