ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-16

, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

নিয়মিত খাবার পাচ্ছেন না লিবিয়ায় বাংলাদেশি কারাবন্দীরা

প্রকাশিত: ১০:৫১ , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ১০:৫১ , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার কারাগারে বন্দী রয়েছে অনেক বাংলাদেশি; তাদের নিয়মিত খাবার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘ সময়ের জন্য বাংলাদেশি বন্দীদের খাবার দিতে তারা বাধ্য নয়। নিয়মিত খাবার না পেয়ে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে লিবিয়ায় সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার লিবিয়ার ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাস এই সতর্কতা জারি করে। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিরা যাতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেয়।

লিবিয়ার কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের ফেরানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর এ এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, আটক ১৮৪ কারাবন্দীকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে তাঁদের দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ত্রিপোলির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। ঢাকা থেকে অনুমতি পাওয়ার পর এঁদের ফেরত পাঠাতে কয়েক দিন সময় লাগবে।

দালালের মাধ্যমে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করা বাংলাদেশের প্রায় দুই’শ নাগরিক এখন লিবিয়ার কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। তাঁরা চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশে সুদান, মিসর, আলজেরিয়া, দুবাই ও জর্ডান থেকে লিবিয়ায় জড়ো হয়েছিলেন। পরে সেখানে ধরা পড়েন তারা। 

লিবিয়ার কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আমরা জেনেছি। দ্রুত কারাগারে আটক লোকজনকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এদের লিবিয়া থেকে দেশে আনার খরচ দেবে।’

২০১৫ সাল থেকে লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। যাঁরা লিবিয়ায় গিয়ে ধরা পড়েছেন, তাঁদের কারও পাসপোর্টেই ওই দেশটির ভিসা ছিল না। জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ইউরোপে লোক পাঠাতে মানব পাচারকারীরা এখন লিবিয়াকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন। দালালের মাধ্যমে যাওয়া বেশির ভাগ বাংলাদেশির চেষ্টা থাকে লিবিয়া থেকে নৌপথে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালি ও গ্রিসে ঢোকা। এ ছাড়া লিবিয়া হয়ে স্পেনে যাওয়ারও চেষ্টা করেন অনেকে। তবে লিবিয়া গিয়ে ধরা পড়েন অনেকে।

লিবিয়া দূতাবাস সূত্র জানায়, বন্দীদের দেশে পাঠানোর বিষয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে পড়েছে। এ অবস্থায় একদিকে যেমন তাঁরা দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন, অন্যদিকে লিবিয়ায় তাঁদের বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে বসেছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএএম) সঙ্গেও দূতাবাসের সম্পর্কে টানাপোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব নমিতা হালদার বলেন, ‘আমরা পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছাব।’

তবে বন্দীদের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র বা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। 

এই বিভাগের আরো খবর

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ১৮ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে ১৮ নভেম্বর। প্রথম দিন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার...

কোন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে চায় না এই কমিশন- কবিতা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে চায় না এই কমিশন। তাই নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের আচরণবিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। একই সাথে...

যাত্রাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজন নিহত; দগ্ধ ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনের ঘটনায় একই পরিবারের ৪জন দগ্ধের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সকালে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is