ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-26

, ১৫ মহাররম ১৪৪০

চিংড়ি চাষে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম

প্রকাশিত: ০৭:২৪ , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০১:০৭ , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাছের সাথে চিংড়ি দেশের নদ নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে এমনিতেই পাওয়া যেত আদিকাল থেকে। সবাই চিংড়িকে মাছ বললেও আসলে এক ধরনের পানির পোকা। খেতে সুস্বাদু তাই মানুষের কাছে এর কদর বেশি। এর গুরুত্ব বেড়ে এতো বেশি হয়েছে যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া চিংড়ির উপরই সন্তুষ্ট না থেকে চাষের দিকে ঝুঁকেছে মানুষ। দেশে প্রায় চারদশক ধরে চিংড়ির চাষ হচ্ছে, যা বড় বাণিজ্যের খাতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসা যত রমরমা, চিংড়ির চাষও তেমন জোরেসোরে চলে। ব্যবসা মন্দা তো চাষেও আসে ঢিলেঢালা। বিশ্বে চিংড়ি চাষ করে এমন মাত্র ১৯টি দেশের একটি বাংলাদেশ।

সাগর, নদী, খাল, বিল, হাওর বাওড় এমন কি ছোট পুকুরের পানিতেও চিংড়ির অস্তিত্ব মেলে। নোনা-মিঠা দুই  পানিতেই এর বাস।

তবে স্বাদের ভিন্নতা হয়। বিপুল পার্থক্য হয় আকারেও। গুড়া চিংড়ি খ্যত অতি ক্ষুদ্র আকৃতির যেমন হয় তেমনি গলদা বা বাগদা নামের আধা ফুট বা প্রায় একফুট দৈর্ঘ্যরে চিংড়িও হয়।

ক্ষুদ্র আকৃতির গুলোকে ইচা মাছও বলে। আবার দেখতে বড়গুলো হয়ে যায় চিংড়ি। সতের আঠারো উনিশ শতকে ভারত শাসনের সময় বৃটিশরা চিংড়িতে মজা পেয়ে যায়। খেতে সুস্বাদু আবার কোন হাড় গোড় বা কাঁটা বেছে খাবার জটিলতা নেই। দেহের গোটাটাই মাংস।

ফলে ১৯৪৭ সালে বৃটিশরা ভারত ছাড়লেও চিংড়ির পিছু ছাড়েনি। বৃটেনে চিংড়ি যেন যায় সেই ব্যবস্থা করে যায় ভারত ছাড়ার সময়। ফলে চিংড়ির বিশেষ গুরুত্ব টের পায় এই অঞ্চলের অধিবাসীরা।

চিংড়ির এই চাহিদা ও বাণিজ্যের দিকগুলো  মাথায় রেখে চাষের চিন্তা আসে। বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে চিংড়ির চাষের শুরুর সময়টা চারদশক আগে বলে উদ্যোকতারা জানান।

চিংড়ি চাষের শুরুটা হয়  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপক’ল ঘিরে, লবণাক্ত পানিতে। তারপর আস্তে আস্তে দেশের ভিতর নানা অঞ্চলে মিঠা পানিতেও চিংড়ির চাষ শুরু হয়।

বিশ্বে যেই ১৯টি দেশ চিংড়ি চাষ করে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে এই তালিকার সরকটি বা বেশির ভাগ দেশই এশিয়ায়। চাষের হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান যতটা ভালো তালিকায় দেখা যায় বাস্তবে তা আরো ভালো হবার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু নানান জটিলতা ও সমস্যায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে।

চাষীরা অনেক যতেœ বিস্তীর্ণ এই ঘেরেই উৎপাদন করছে সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি। খূলনা উপকূলীয় এলাকার প্রায় প্রতিটি পরিবারের সদস্যই কোনা না কোনভাবে এই চাষের সাথে জড়িত। অথচ বিশাল এই কর্মযজ্ঞ এখনও পরিকল্পিত নয়। প্রান্তিক চাষীদের দাবি এখনই সরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া না হলে, হয়ত ধ্বংস হয়ে যাবে এই খাত।


 
 

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is