ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-19

, ৮ মহাররম ১৪৪০

একাত্তরে বস্তিতে নারকীয় তান্ডব চালায় পাকিস্তানী সেনারা

প্রকাশিত: ১০:২৮ , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০৫:৫৭ , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে রেল লাইনের ধারের বহু বস্তিবাসীর অবদান যেন এক অকথিত অধ্যায়। জীবন যাপনের জন্য প্রতিদিন তীব্র সংগ্রাম করা এসব মানুষের বস্তিতে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালো রাতে গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। বিপুল ক্রোধে তাদের বস্তিতে আগুন দিয়েছিল পাকিস্তানী সেনারা। সেসময় পাকিস্তানী হানাদারদের আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু গুলোর একটি ছিল ঢাকার পলাশীতে রেলের ধারের বস্তি।  
রাজধানীর পলাশীতে যে রেল লাইন ছিল সেটা হয়তো এখন খুব কম মানুষ জানে। সেই রেল লাইনের ধারে যে বস্তি গড়ে উঠেছিল সেটাও বিস্মৃত প্রায়। ১৯৪৭ সালে ভারতকে বিভক্ত করে এই উপমহাদেশ ছাড়ে বৃটিশরা। ভারত থেকে শূণ্য হাতে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশে আসে নিঃস্ব, দরিদ্র বহু মানুষ। তাদের অনেকেই সেসময় পলাশী রেললাইনের পাশে মাথা গুজবার ঠাই হিসেবে গড়ে তোলে বস্তি।
ছাত্রদের ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক সংগ্রামে সেই পলাশীর বস্তিবাসীর  নানাভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান ছিল বলে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালোরাত্রিতে গণহত্যাকারী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আক্রোশ ছিল সেই বস্তির উপরও।
অবশ্য স্বাধীনতার পর রেল লাইনের ধারে বস্তি সম্প্র্রসারিত হয়েছে দারিদ্র ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের নিঃস্ব হয়ে আশ্রয় খোঁজার পরিণতি হিসেবে। ফলে সবসময় বিচিত্র উপায়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা থাকে এদের। প্রতিনিয়ত খোঁজে আয়ের নতুন উৎস।  
এখানে বস্তিঘর গুলো দৈর্ঘ ও প্রস্থে পাঁচ ফুট বা তারও নীচে।  বাঁশ, কঞ্চি, চাটাই, প্লাস্টিক, পলিথিন, মোটা কাগজের শিট, কোথাও টিনের ব্যবহারও দেখা যায় এমন হাজার হাজার ঘরে। ইটের আধাপাকা ঘরও চোখে পড়ে। বৃষ্টি থেকে বাঁচার উপায় বের করে তারা।  
এতো সামান্য আয়োজনে বসবাসকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে দেখেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
২০১৪ সালের বস্তিশুমারি অনুসারে দেশে বস্তিবাসির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২২ লাখ। যা ১৯৯৪ সালের শুমারির তুলনায় সাড়ে আট লাখ বেশি। আলাদা গণণা না থাকায় ধারনা করা হয়, মোট বস্তিবাসীর ৩৭ শতাংশ মানুষ থাকেন রেল লাইনের ধারের বস্তিগুলোতে।

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is