ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-20

, ৯ মহাররম ১৪৪০

মিথ্যাভাবে ছবি উপস্থাপনের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্ষমা প্রার্থনা

প্রকাশিত: ০৯:৫৮ , ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০৯:৫৮ , ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি ছবিকে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করার জন্য ক্ষমা চেয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তারা ‘ভুলভাবে’ দুটি ছবি প্রকাশ করেছে উল্লেখ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মুখপত্র মিন্দানাও ডেইলিতে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “এই ভুলের জন্য পাঠক এবং ওই ছবি দুটির আলোকচিত্রীদের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”

গত জুলাই মাসে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে অজানা সত্য তুলে ধরার ঘোষণা দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী একটি বই প্রকাশ করে। যেখানে অন্য দেশের পুরনো দুটি ছবি ব্যবহার করে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। গত শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওই বইয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভুয়া ছবি ছেপে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

ইংরেজি ও বর্মী ভাষায় প্রকাশিত ‘মিয়ানমারের রাজনীতি ও সেনাবাহিনী: প্রথম পর্ব’ নামে ১১৭ পৃষ্ঠার ওই বইয়ে গত বছরের আগস্টের পর শুরু হওয়া সামরিক অভিযান নিয়ে সেনাবাহিনীর ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেনাবাহিনীটির প্রচার শাখা ‘ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক রিলেশনস অ্যান্ড সাইকোলজিকাল ওয়ারফেয়ার’ মিথ্যাচার সংবলিত এ বইটি প্রকাশ করে।  

এর মধ্যে পুরনো সাদা-কালো একটি ঝাপসা ছবিতে দেখা যায়, এক লোক কৃষিকাজে ব্যবহৃত নিড়ানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দুই লাশের পাশে। ক্যাপশনে বলা হয়- ‘স্থানীয়দের নির্মমভাবে হত্যা করেছে বাঙালিরা’। ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে ওই বইয়ে ১৯৪০ এর দশকে মিয়ানমারের দাঙ্গার অধ্যায়ে। রোহিঙ্গাদের হাতে বৌদ্ধরা হত্যা হয়েছে তা প্রতিপন্ন করতেই এ মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। অথচ ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়, যখন লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

অপর আরেকটি ঝাপসা সাদা-কালো ছবিতে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষ নিয়ে পাহাড়ি পথ ধরে কোথাও যাচ্ছে। তার ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি মিয়ানমারের দক্ষিণ অংশ দখল করে নেওয়ার পর বাঙালিরা এ দেশে প্রবেশ করে।” অথচ ১৯৯৬ সালে রুয়ান্ডায় তোলা একটি রঙিন ছবিকে বিকৃত করে সেখানে উপস্থাপন করা হয়। রুয়ান্ডায় সহিংসতার পর হুটু শরণার্থীদের দেশত্যাগের ওই ছবি তুলে পিটসবার্গ পোস্টগেজেটের আলোকচিত্রী মার্থা রিয়াল পুলিৎসার পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

সাদা কালো আরেকটি ছবিতে দেখা যায় বেহাল চেহারার একটি নৌকা বোঝাই মানুষ। তাতে ক্যাপশন- “সাগর পথে মিয়ানমারে ঢুকছে বাঙালিরা।” আসলে ওই ছবিটি ২০১৫ সালের ইয়াঙ্গনে তোলা একটি ছবি। ওই সময় লাখ লাখ মানুষ নৌকায় করে সাগরপথে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছিলেন। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বহনকারী এরকমই একটি নৌকা সে সময় মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।

আসল ছবিটি উল্টে দিয়ে সেটি সাদা-কালো আর ঝাপসা করে ব্যবহার করা হয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বইয়ে, যাতে ছবিটি অনেক পুরনো মনে হয়। বইটিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনের মুসলিম রোহিঙ্গাদের বর্ণনা করেছে ‘বাঙালি অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে।

মিন্দানাও ডেইলিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রথম দুটি ছবির বিষয়টি ভুল বলে স্বীকার করলেও তবে তৃতীয় ছবিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদনে সচরাচর ক্ষমা চাওয়ার কোনো অভ্যাস না থাকা মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে বেশ ভালো মতোই চাপে পড়েছে, এবারের ক্ষমা চাওয়া তারই একটি বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

দুর্গাপূজায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও থাকছে নজরদারিতে 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি করা হবে। কোনো প্রকার  গুজব ছড়িয়ে যাতে...

মুক্তি পাচ্ছেন নওয়াজ শরিফ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজের সাজা স্থগিত করে...

রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতনের প্রাথমিক তদন্ত শুরু আইসিসি'র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত নেমেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-আইসিসি।...

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক প্রকল্প...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is