ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-25

, ১৪ মহাররম ১৪৪০

প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সুশিক্ষা বঞ্চিত হয় ভাঙন কবলিত শিশুরা

প্রকাশিত: ১০:২২ , ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০১:০৭ , ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : নদী  ভাঙ্গনের শিকার অধিকাংশ মানুষ প্রথম মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজে নদীর পাড়ের খোলা জায়গায়, নতুন ঘর তুলে বসতি গাড়েন তারা। অনেকে বাৎসরিক চুক্তিতে অর্থের বিনিময়ে ঘর তুলে থাকেন পরের জমিতে। অনেকে আশ্রয় নেয় নদীর বুকে জেগে ওঠা নতুন চরে। দুর্গম চর কিংবা নদীর পাড়ের ঝুঁকি এবং জীবন জীবিকার সন্ধান পাওয়া দুস্কর হলেও নদী গর্ভে বিলিন  বাবার ভিটার মায়ার টানে অনেকে সেখানেই থেকে যান।

অশিতীপর ধলু মিয়া। একাধীকবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সব হারিয়েছেন। জীবনের শেষ অধ্যায়ে তাঁর ঠাঁই হয়েছে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার বুকে জেগে ওঠা বাটির চরে।

এই বাটির চরের মতো পদ্মা, মেঘনা, যমুনার বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য ছোট ছোট চরে ঘর তুলে নতুন করে জীবন শুরু করে ভাঙ্গনের শিকার মানুষেরা। সেখানেও স্বস্তি নেই, আছে সংকট। সমাজের প্রভাবশালীরা চর দখল করে নেয়ায় অনেকটা চরের জমির পাহারাদার হিসেবে থাকতে হয় তাদের। কোনো কোনো পরিবারকে ঘরতুলে থাকার জন্য মাসিক কিংবা বাৎসরিক কিস্তিতে টাকা দিতে হয় মহাজনদের। চর ডুবে গেলে জীবনের আরেক অধ্যায়ের সূর্য ডুবে।

চরের মানুষেরা কৃষিকাজ, মূল ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগের জন্য ট্রলার কিংবা নৌকা চালিয়ে, কিংবা মাছ ধরে জীবিকার সন্ধান করে। চরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নেই বললেই চলে।  বাল্য বিবাহ, জন্মহার ও অপরাধ বেশি এখানে। এগুলোও নিয়মিত বিপদ, ভাঙনে বিপদগ্রস্ত মানুষদের জন্য।

নদী ভাঙ্গনে নিংস্ব অনেকে চরে কোথাও জায়গা না পেয়ে মাথা গোজার ঠাঁই খোঁজে বাধের ওপর। কখনো জোড়াতালির সেই বাধের ওপর বাধা ঘরও ভেসে যায় নদীর জলে। অনেকে রাজধানীসহ মহানগর-শহরে পাড়ি জমায়।

তবে গত কয়েক বছরে নদী ভাঙ্গা মানুষদের কিছু সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সরকার ও  বিদেশী কয়েকটি সংস্থা। তবু চরম দারিদ্রসীমার নিচে কাটে তাদের জীবন।

চরম অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে অনেক সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর খবর পাওয়া যায়  কিছু  দূর্গম চরে। বিপদ যেন ভাঙন পীড়িত মানুষের পিছু ছাড়ে না।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is