ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-21

, ১০ মহাররম ১৪৪০

নদী ভাঙনে শেকড়ের পরিচয় থেকে ছিন্ন হয় মানুষ

প্রকাশিত: ১০:১৪ , ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০১:০৪ , ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : নদী পাড়ের মানুষের কাছে নদীই জীবন। জীবিকার উৎস এবং বেঁচে থাকার স্বপ্ন আবর্তিত হয় নদীকে ঘিরে। আবার নদীই তাদের নিঃস্ব করে, তখন সর্বনাশা। একাধিকবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে অনেকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন হারায়। অনেকে নদীর কাছে সব হারিয়ে  নিরন্তর ছুটে চলে, খোঁজে মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই। কারো পুরো জীবনটাই পতিত হয় পরনির্ভশীলতায়।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ৯৫ বছরের প্রৌঢ় লোকমান মোল্লা। যমুনার ভাঙনে একাধিকবার হারিয়েছেন ভিটে-মাটি, জমি ও অন্যান্য সহায় সম্বল। সব হারানো এই বৃদ্ধের অন্যত্র যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই যমুনার পাড়েই ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে কোনোমতে বাস করেন। এই আশ্রয় টুকুতেও আবার হানা দিয়েছে যমুনার ভাঙ্গন।

আব্দুল আলীম ভূইয়া সিরাজগঞ্জ সদরের পাশে যমুনায় জেগে ওঠা চর নিয়ে গঠিত কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। একসময় পাঁচশ বিঘা আবাদী জমি আর গোয়াল ভরা গরু ছিলো তাদের। কিন্তু বছর ত্রিশেক আগে যমুনার ভয়াল গ্রাসে সব হারিয়ে মহাবিপর্যয়ে পড়েন তারা। সেই দুর্দিন কাটিয়ে এখন খানিকটা উঠে দাঁড়াতে পারলেও ভাগ্য বদলায়নি অন্যদের। সর্বসান্ত হয়ে যাযাবর জীবন যাপন করছেন নদী সিকস্তি মানুষগুলো।

যমুনা পাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় এমন অসংখ্য মানুষের দেখা মেলে যারা একাধিকবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন। সবাই তার দুঃখের কথা বলে ভারী বুক হালকা করতে চান।

নদী শুধু ভূমি নয়, সম্পদ নয়, কাড়ে জীবনও।। সম্প্রতি পদ্মা পাড়ের জেলা শরীয়তপুরের নড়িয়া, সাধুবাজার এলাকায় আকষ্মিক ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ঘর বাড়ির সাথে নদীতে বিলিন হয় জীবন্ত পাঁচটি প্রান। নিয়মিতই এমন বেদনা সইতে হয় নদী ভাঙা মানুষদের।

ভাঙ্গন আঁচ করতে পেরে কেউ কেউ আগেভাগেই ঘরবাড়ি আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারলেও কারো কারো মেলেনা সেই সুযোগটুকুও।

ভাঙ্গনের কবলে পড়া পরিবারের শিশু কিশোরদের বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্থ হয় নানাভাবে। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, শৈশব কৈশোরেই বাঁচার তাগিদে নেমে পড়ে জীবন সংগ্রামে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is