ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-16

, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

নদী ভাঙনে প্রতিবছর সর্বশান্ত হয় শত-সহস্র পরিবার

প্রকাশিত: ১০:১০ , ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০১:০১ , ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মানুষের চিরায়ত এক দুঃখ-কষ্টের নাম ‘নদী ভাঙ্গন।’ রাতারাতি কোন ধণাঢ্য ব্যক্তি, পরিবারকে নিঃস্ব করে পথে বসিয়ে দিতে পারে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ভূ-প্রকৃতির গঠনের কারণে বিশ্বের অন্য দেগুলোর চেয়ে স্বদেশে নদী ভাঙ্গনের প্রবণতা বেশি। নদী ভাঙ্গন মানেই সেই এলাকার ভূ-প্রকৃতির চিত্রের পরিবর্তন, আর অগণিত জীবনের কান্না।

সরকারি হিসেবে পদ্মা মেঘনা, যমুনা, করতোয়া, কপোতাক্ষ ও ব্রহ্মপুত্রসহ ছোট বড় ২৩০ টি নদী বয়ে গেছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ড দিয়ে। এই সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি নদ-নদী ছিল এক সময়। নদীর পানি বিভিন্ন শাখা উপশাখা দিয়ে গিয়ে পড়ে বঙ্গোপসাগরে। বর্ষায় পানি বাড়ে, নদী পাড়ের বালু ও পলি মিশ্রিত নরম মাটি ভিজে দূর্বল হয়।

ভাটার টানে তীব্র স্্েরাতে পানি সাগরমুখী হলে দু’পাড় ভাঙতে ভাঙতে যায়।  নদীতে কৃত্রিম বাধ দেয়া ও নদীর তলভাগ ভরাট হওয়াও নদী ভাঙ্গনের অন্যতম কারন।

সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর তিন মাস নদী ভাঙ্গন বেশি হয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে, প্রতিবছর ভাঙ্গনে গড়ে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। এর ৮০ ভাগ ভাঙ্গে এই তিন মাসে। নদী ভাঙ্গন নিয়ে গবেষণারত সরকারি ট্রাস্ট সিইজিআইএস-এর তথ্য মতে, গত ৩৫ বছরে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার ভূমি ও জনবসতি এলাকা নদীগর্ভে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ২৭ লাখ মানুষ।

প্রধান তিন নদী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ভাঙ্গনেই বিলিন হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর ভূমি। আর বাস্তুচ্যুত মানুষ ১৭ লাখ। প্রধান তিন নদীর মধ্যে  যমুনার ভাঙ্গন সবচেয়ে বেশি।

গবেষকদের তথ্য মতে, গত ৩৬ বছরে সমুদ্র উপকূলবর্তী ভোলার ২৪০ বর্গকিলোমিটার, হাতিয়া দ্বীপে ১৫০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি গেছে ভাঙনে। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় প্রায় ১২০০ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাঙ্গন না ঠেকালে নদীগর্ভে বিলিন হতে থাকবে শত শত কিলোমিটার এলাকা। যা ভূমি সংকটপূর্ণ ৫৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ছোট বাংলাদেশের জন্য নিয়মিত দুশ্চিন্তার।   

এই বিভাগের আরো খবর

পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিভাগীয় নির্বাচনী আসন গুলোতে, হোক তা শহরে কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে এরই মধ্যে। কর্মব্যস্ত...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is