ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-19

, ৮ মহাররম ১৪৪০

শেয়ারবাজারে বড় দু’টো দরপতনে সাজা পায়নি কোন অপরাধী

প্রকাশিত: ০৯:০৮ , ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ১২:৫২ , ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় সংকট এখন। ২০১০ সালে পূঁজিবাজারে ব্যাপক মূল্য পতনের পর আসা ৭৮টি নতুন কোম্পানির মধ্যে ৬৫টির শেয়ারের দাম ফেস ভ্যালুর, অর্থাৎ কোম্পানির ঘোষিত মূল্যের নিচে নেমে গেছে। এ ক্ষেত্রে খোদ কর্তৃপক্ষই এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছে। এমন নানান কারণে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনীয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না।

পঞ্চাশোর্ধ এম এ কুদ্দুস শেয়ার বাজারের একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। তারুণ্যের ১৪ বছর সৌদি আরবে কাজ করে ৩৫ লাখ টাকা জমিয়ে দেশে ফেরেন। বিনিয়োগ করেছিলেন শেয়ারবাজারে। কিন্তু ২০১০ সালের বাজার পতনে সব টাকা গেছে। তাই আবারও দেশ ছাড়ছেন জীবিকার তাগিদে।

আরেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী শাহজালাল আহমেদ। তিনিও অন্যের দেখাদেখি বিনিয়োগ করেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আরো একটি কারণ বাজার বিশ্লেষণ না করেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শেয়ার কেনা ও বেচায় নেমে পড়ে।

এর বিপরীত চিত্রও আছে বাজারে। দক্ষ পেশাদার বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে বুঝে শেয়ার বেচা কেনা করে; কিন্তু তারপরও তাদের অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১০ সালের ধ্বসের পর ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৯৭ কোম্পানি তালিকাভূক্ত হয়ে শেয়ার াজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করেছে। তার মধ্যে ৭২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম তার ঘোষিত মূল্যের নিচে গেছে, যা আর উঠেনি। খোদ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বলছে, শেয়ারবাজারে আসার আগে এসব কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দেয়ায় তাদের শেয়ারের দামে এমন বিপর্যয় ঘটেছে। যা দেখার কথা ছিল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর।

বাজারে তালিকাভূক্ত অনেক কোম্পানি দীর্ঘদিন পণ্য উৎপাদনে নেই। অথচ এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক ভাবে। গত  জুলাই মাসে এমন দুটি কোম্পানিকে পূঁজিবাজার থেকে বের করে দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। তার আগে এসব কোম্পানির শেয়ার অনেকে কিনে রাখায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এ সংক্রান্ত আইন না থাকায় ক্ষতিগ্রস্তরা আর টাকা ফেরত পাবেন না।

নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নানান উৎসাহ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরিয়ে আনলেও এভাবে ক্ষতির পর এর দায় কেউ নিতে রাজি নয়।

দেশের শেয়ার বাজারে দু’বার ধ্বসের ঘটনার কারন উদ্ঘাটন হয়নি, প্রতিকার ও বিচার পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।

২০১০ সালে ধ্বসের পর প্রধান পূঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজ এবং কোম্পানির তালিকাভূক্তির সংখ্যা বাড়লেও লেনদেন বাড়েনি তেমন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is