ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-21

, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বাঘের থাবায় বীভৎসভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেকের মুখমণ্ডল

প্রকাশিত: ০৯:৪৩ , ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০১:৩০ , ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাঘের মুখে প্রাণ হারানো সুন্দরবন ঘেঁষা গ্রামীণ জনপদের জন্য এক ধরনের বেদনার ঘটনা। আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারানো আরেক ধরনের দুঃখ। এই আহতদের মধ্যে অনেকে আছেন, যাদের মুখমণ্ডল বাঘের থাবা বা কামড়ে এমন বীভৎসভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, তারা বাইরের কাউকে সে চেহারা যেমন দেখান না। তেমনি নিজের চেহারাও আয়নায় দেখতে ভয় পান।

৪২ বছরের হাসমত সরদার গত ২৬ বছর ধরে আয়নায় নিজের মুখ দেখেননি। ১৪ বছর বয়সে হাসমতের শুধু চেহারাই পাল্টে দেয়নি বাঘের কামড়, থাবায় ঘাড়ের ওপর মাথার অবস্থানটাই ঘুরিয়ে দিয়েছে। তখন ১৯৯২ সালের পৌষ মাস। নিত্যকার মতো ৩ সঙ্গীর সাথে রাতভর সুন্দরবনের এক খালে বাগদা চিংড়ির রেনূ ধরতে গিয়েছিলেন হাসমত। ভোরে নৌকার ওপর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এসময় কখন যে খালের জলে বাঘ নেমেছিলো, টের পায়নি। খালের পানিতে দাঁড়িয়েই হাসমতের মুখে থাবা ফেলে বাঘ।

প্রাণে বাঁচলে সঙ্গীরা হাসমতকে প্রথমে সাতক্ষীরার, পরে খুলনার এবং ঢাকার হাসপাতালে নিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। ক্ষতর ভয়াবহতা দেখে, চিকিৎসকরা হাসমতকে হাসপাতালে আয়নায় নিজের মুখ দেখতে বারন করেছিল।

গ্রামের কাউকে চেহারা দেখাবেন না বলে, হাসমত বৈশাখী টেলিভিশনকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন, নিজের ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ করে। তবে, ক্যমেরায় নিজের মুখ লুকাননি।    

ষাটোর্দ্ধ মোতালেবের বাবা ও এক ভাই বাঘের মুখে প্রাণ দিয়েছেন। আর মোতালেব নিজেকে বাঘের থাবা থেকে বাঁচিয়ে আনতে পারলেও, তার চেহারায় দারুন ক্ষত চিহ্ন একে দিয়েছে বাঘ। তবু বনে যাওয়া থামায়নি তার সাহসী মন।

চল্লিশোর্দ্ধ আব্দুল গণি গাজী বনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের মুখে পড়ে ছিলেন। দারুণ লড়াই করে বেঁচে ফেরেন, তবে ভাঙ্গা কোমর নিয়ে।

গ্রামের যারা এসব লোমহর্ষক ঘটনা শুনে জানেন তারা দারুণ উত্তেজনায় উর্দ্ধশ্বাসে বলে যান স্মৃতি থেকে। কিন্তু যারা এসব ক্ষত নিজের দেহে বয়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের সাথে লড়াইয়ের সেই স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে আজো হীম হয়ে যায় দেহ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিভাগীয় নির্বাচনী আসন গুলোতে, হোক তা শহরে কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে এরই মধ্যে। কর্মব্যস্ত...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is