ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-26

, ১৫ মহাররম ১৪৪০

প্রায়ই জেতে বাঘ, মানুষের জয়ে হয় বীরত্বের কাহিনী

প্রকাশিত: ০৯:৪২ , ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০১:৩৩ , ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুন্দরবনের বাঘ, যাকে বিশ্বজুড়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার নামে সবাই চেনে। বিলুপ্তি ঠেকিয়ে হলুদের ওপর কালো ডোরাকাটা এই বিরল প্রজাতির বাঘকে বাঁচিয়ে রাখার নানান চেষ্টা চলছে বহু বছর ধরে। অন্যদিকে এই বাঘই সুন্দরবন ঘেঁষা জনপদের মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গা। বাঘের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে নিরস্ত্র মানুষের বাঘকে মেরে ফেলার ঘটনা বীরের মর্যাদা দেয় বেঁচে আশা মানুষটিকে।

আতিয়ার মল্লিকের ঘটনাটি আক্ষরিক অর্থে বাঘের মুখ থেকে বেঁচে আসার কাহিনী। এই লোমহর্ষক বর্ণনার ঘটনাটি ঘটে দশ বছর আগে। ২০০৮ সালের ২৯ এপ্রিল দুপুরে, যখন আতিয়ার মল্লিক সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের লেবুখালী এলাকার খালে মাছ ধরছিলেন। তার পেছন দিয়ে সন্তর্পণে আসা বাঘের আক্রমনের হাত থেকে বাঁচার ঘটনা আজো মানুষের মুখে মুখে ফেরে বীরত্ব গাঁথা হিসেবে।      

২০০৭ সালের শেষে ভয়াল ঘুর্ণিঝড় সিডরে নিজের বাড়ি ঘর গরুসহ সব হারিয়ে সর্বশান্ত হওয়ায় চাচাতো ভাইয়ের হাত ধরে জীবীকার সন্ধানে সুন্দরবনে যাওয়া শুরু করেছিলেন আতিয়ার মল্লিক। মাত্র কয়েক মাসের মাথায় বাঘের মুখ থেকে ফিরে এসে নিজের শারীরীক সক্ষমতাও হারিয়েছেন। বনে যাওয়া তো দুরে কথা, ঘরেই আতঙ্কে দিন কাটান।

বাঘেরহাটের শরণখোলা গ্রামের জামাল গাজীর বাবা বাঘের মুখ থেকে ফিরতে পারেন নি। ১৮ বছর আগে এক মাঘের শীতের ভোরে সন্দুরবনের খালে মাছ ধরে বিক্রি করে জামালের বাবার মিস্টি নিয়ে আসার কথা ছিলো। কিন্তু তার বাবাই ফেরেনি। পরে শুধু ফিরে পেয়েছে বাঘে খাওয়ার পর তার বাবার দেহাবশেষ।

বাঘের মুখে জীবন কাটানোর এমন লোমহর্শক কাহিনী বলতে ক্যমেরা দেখে রীতিমতো ভীড় করে এসব গ্রামের মানুষ।    

শুধু বনে গেলেই নয়, প্রায়ই গ্রামীন জনপদে খাবারের খোঁজে আসলে বাঘের সাথে বাঁচা মরার লড়াই করতে হয় এখাকার মানুষদের। নিজের প্রাণ কক্ষার পাশাপাশি গবাদি পশুকেও বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কেননা সেগুলোই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এসব ধাবাহিক সংগ্রামে যেমন মানুষের প্রাণ যায়, তেমনি কখনো যায় বাঘেরও।

সাম্প্রতিক কালে, জনপদে বাঘ চলে আসার প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলে জানান এসব জনপদের অধিবাসীরা। আগে সপ্তাহে কম করে হলেও আট দশটি আক্রমন হতো গ্রামগুলোর জনপদে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is