ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-26

, ১৫ মহাররম ১৪৪০

বঙ্গবন্ধু হত্যার ৪৩ বছর পরও বিচার হয়নি পরিকল্পনাকারীদের

প্রকাশিত: ০৬:৪৯ , ১৮ আগস্ট ২০১৮ আপডেট: ০৯:৪৯ , ১৮ আগস্ট ২০১৮

কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। আজ শনিবার ধানমণ্ডিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তারা এই দাবি করেন। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত শোক দিবসের এই আলোচনায় বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে জানান, একটি দেশের জাতির পিতাকে হত্যা করার পর আইন করে সেই হত্যার বিচারকার্যক্রম বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডিমিনিটি বিলে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু তারপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিলেও এই আইন বাতিল করেননি। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের পর এরশাদ এবং ১৯৯০ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও এই কালো আইন বাতিল করেনি। বরং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই আইন বাতিল হয় এবং মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।

এ সময় তিনি আরও জানান, মামলা নিয়ে বিচারকদের বিব্রতবোধের বিড়ম্বনার পাশাপাশি তথ্য ও দলিলাদি সংগ্রহ করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে সরাসরি হত্যাকারীদের আমরা বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে মূল পরিকল্পনাকারীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা এখন বেশ স্পষ্ট। তাই আমি মনে করি আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও এখনও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি।

অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, আমার বয়স তখন মাত্র তিন বছর নয় মাস। মা-বাবার সাথে কোন সুখ স্মৃতি আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে মেঝেতে রক্তাক্ত পরে থাকা আমার বাবার লাশ এবং তারপর মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্তের কথা।

তিনি বলেন, বাবা-মা ছাড়া আমাদের কেউ দীর্ঘ সময় আশ্রয় দিতে চায়নি। এই আত্মীয়ের বাসা থেকে ওই আত্মীয়ের বাসায় আমার পাঁচ বছরের বড় ভাই আমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের বেশি কেউ আমাদের আশ্রয় দেয়নি। কিন্তু এটা বড় কষ্ট ছিল না। সবচাইতে বড় কষ্ট ছিল, হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারা। আর তার থেকেও বড় কষ্ট ছিল বঙ্গবন্ধু ও আমার বাবাকে নিয়ে চালানো প্রোপাগান্ডা।

তাপস আরও বলেন, ১৯ নভেম্বর আমার জন্মদিন। এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবারকে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণ রায় পাই। কখনও আমার জন্মদিন পালন করা হয়নি। কিন্তু এটি ছিল আমার জন্য সবচাইতে বড় জন্মদিনের উপহার।

তবে এই রায়েও পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট নন তাপস। তিনি উপস্থিত কূটনীতিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, আত্মস্বীকৃত খুনিরা জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করে ক্যু এর কথা জানানো হয় এবং প্রতি উত্তরে জিয়া বলেন, ‘গো এহেড’। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এমনকি ভারতেও কোন আর্মি অফিসারের এমন মন্তব্যকে কি বলা হয়? এটা কি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। বিষয়টা এভাবেই বলা, ‘আমি যেতে পারছি না, তোমরা কাজটি করে এসো’। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা এখন স্পষ্ট। আমি কবরে যাবার আগ পর্যন্ত বলে যাবো, বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবার হত্যায় সরাসরি জড়িত জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোশতাক।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর জাপানি চলচ্চিত্রকারের নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের সাক্ষাৎকার এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের একটি সাক্ষাৎকার প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম কমিটির সদস্য লে: কর্নেল (অব:) ফারুক খান ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও উপকমিটির সদস্য সচিব ড. শাম্মী আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দীপু মনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য শাহাব আহমেদ, খান মঈনুল ইসলাম মোস্তাক, উপকমিটির সদস্য ও বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব আবদুল মজিদ, জাফর সাদেক বিপ্লব, সজীব আহমেদ,সুরুজ আলম সুরুজ, উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার, ব্যারিস্টার মাফরুহা মারফি, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, কান্তারা খান, তরুণ কান্তি দাস, তাহমিনা খাতুন শিলু সহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

বিএনপির জনসভা দুইদিন পেছালো

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় বিএনপির জনসভা দুইদিন পেছানোর ঘোষণা দিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ঢাকায় বৃহস্পতিবার ২৭...

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে আপত্তি নেই : ড. কামাল

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহবায়ক ও গণফোরাম সভাপতি  ড: কামাল হোসেন বলছেন, বর্তমান সংবিধানিক কাঠামো এবং ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে...

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে ‘জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য’ বললেন সেতুমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি: সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে ‘জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য’ বলে আখ্যা দিলেন আওয়ামী...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is