ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-25

, ১৪ মহাররম ১৪৪০

বজ্রপাতের ৩ ঘণ্টা আগেই মিলবে সতর্কবার্তা

প্রকাশিত: ০৪:০৩ , ০২ আগস্ট ২০১৮ আপডেট: ০৪:০৩ , ০২ আগস্ট ২০১৮

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রাণঘাতী বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বিজ্ঞানীরা, যার মাধ্যমে অন্তত ১ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে জানা যাবে বজ্রপাতের কথা। ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, ওয়েবসাইটের দৌলতে আবহাওয়া দফতরের প্রতি ১০ মিনিট অন্তর আপডেট হওয়া খবর অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানান দিবে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের এক শীর্ষকর্তা বলছেন, বজ্রপাতের মত দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার রাস্তা অনেকটাই খুলে যাবে তিন মাস পর। এ বার ১ থেকে ৩ ঘণ্টা আগেই জানা যাবে কোথায়, কখন, কতটা গতিবেগে পৌঁছে যাবে বজ্রগর্ভ মেঘ। জানা যাবে সেই বজ্রগর্ভ মেঘের শক্তি কতটা। বলা যাবে তার জেরে কি বজ্রপাত হবে প্রচণ্ড, নাকি হবে মাঝারি বজ্রপাত? জানা যাবে আকাশের কতটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিদ্যুতের ঝলকানি। শক্তিতে কতটা দড় হবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি।

চেষ্টা চলছে, যাতে আগামী বছর বজ্রবিদ্যুতের মরশুম (মার্চে) অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে সেই পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়। বহু দূরে চাষের জমি থেকে যাতে কোনও বিপদ ছাড়াই ঘরে ফিরতে পারেন কৃষকেরা।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো), ভারতীয় নৌবাহিনী ও পুণের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিরিওলজি’ (আইআইটিএম)-র সহায়তায় এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর।

ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর, বিশিষ্ট আবহবিদ অসীম মিত্র জানান, “ওই পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী এবং আইআইটিএমের প্রায় ৪০টি লাইটনিং ডিটেকশন সেন্সর ছাড়াও ব্যবহৃত হবে ইসরোর দু’টি কৃত্রিম উপগ্রহ, ‘ইনস্যাট-৩ডি’ এবং ‘ইনস্যাট-৩ডি (আর)’। ব্যবহার করা হবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের ১৪টি রাডারকেও’’

তিনি বলেন, ‘‘এ বার এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ওই মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ শতাংশ কমে যাবে, এমনটা দাবি করছি না। তবে তা যে অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে, এটা নিয়ে কোনও সংশয় থাকতে পারে না।’’

বিশিষ্ট আবহবিদ পওয়ার জানাচ্ছেন, দু’ধরনের মেঘ থেকে বাজ, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি আর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জন্ম হয়। এক ধরনের মেঘকে বলে ‘কনভেক্টিভ ক্লাউড’। অন্য ধরনটি হল ‘ডিপ কনভেক্টিভ ক্লাউড’। কলভেক্টিভ ক্লাউড থেকে যে বাজ পড়ে তা অতটা প্রচণ্ড হয় না। তুলনায় কম হয় বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি আর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিমাণও। কিন্তু ‘ডিপ কনভেক্টিভ ক্লাউড’ থেকে সবক’টিই হয় বেশি পরিমাণে। কৃত্রিম উপগ্রহ, রাডার আর লাইটনিং ডিটেকশন সেন্সরের মাধ্যমে সেই মেঘের ওপরে নজর রেখেই এমন পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।
সূত্র: আনন্দবাজার

এই বিভাগের আরো খবর

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরামর্শক থাইকম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ...

হঠাৎ ব্রেক ফেল?

ডেস্ক প্রতিবেদন:  কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই গাড়ির ব্রেক ফেল হয় বলে এর ঝুঁকি অনেক বেশি। ব্রেক ফেল করে কখনো কখনো প্রাণহানির ঘটনার খবর শোনা যায়।...

৫ ক্যামেরার ফোন আনছে নোকিয়া!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: পাঁচ ক্যামেরার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন আনতে পারে নোকিয়া, ডিভাইসটির ফাঁস হওয়া ছবিতে এমনটাই দেখা গেছে। চলতি বছরের...

রঙিন এক্স-রের উদ্ভাবন; চিকিৎসা বিজ্ঞানে যুগান্তকারী আবিষ্কার

ডেস্ক প্রতিবেদন: চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করলেন নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। রঙিন এক্স-রের উদ্ভাবন করলেন তাঁরা।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is