সব মানের চা এখন দেশেই চাষ হয় আপডেট: ১১:১১, ২০ এপ্রিল ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রত্যেক বাগান থেকে যে পাতা সংগ্রহ করা হয় তাতে বারো রকমের মান সম্পন্ন চা তৈরি হয়। কয়েক দশক আগে একদম নিম্নমানের চা পাতাগুলো দেশীয় বাজারে বিক্রি হতো। কিন্তু এখন শীর্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত সব মানের চায়ের ভোক্তা তৈরি হয়েছে দেশে। বৈচিত্র্যপূর্ণ চা’র জন্য আগে ভারত বা চীনের চা পাতার ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন দেশের বাগানেই অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ চায়ের চাষ হচ্ছে। চা পানের প্রক্রিয়ায়ও অনেক বৈচিত্র্য এসেছে।

শহর কিংবা গ্রাম সর্বত্রই দেশজুড়ে এমন ছোট ছোট অস্থায়ী চায়ের দোকানের সংখ্যা যে কত লক্ষ কেউ জানেনা। এর বাইরে চায়ের ব্যবস্থা আছে আরো অসংখ্য রেষ্টুরেন্ট, হোটেলে। ঘরে ঘরে খাওয়া হচ্ছে। চা বোর্ডের হিসেবে ১৬ কোটি মানুষের দেশে দিনে আট কোটি কাপ খাওয়া হচ্ছে। তবে, সবাই একই মানের চা খাচ্ছেন না। কে কোন মানের খাচ্ছেন সাধারণের জন্য বোঝা কঠিন।  

একইভাবে পাতা সংগ্রহের পর সেগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাত করে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক নিলামে বিক্রির জন্য নেয়া হয়। যেখান থেকে চা পাতা বিদেশে বা দেশে বিক্রির জন্য যায়। সিলেট চা উৎপাদনের রাজধানী হওয়ায় এখানে আরেকটি নিলাম কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ বছর পাচেক আগে নেয়া হলেও তা আজো চালু হয়নি।  

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় পঞ্চগড়ে ব্যপক হারে চা চাষ শুরু হয়। গড়ে ওঠে বড় ২৬ টি এবং মাঝারি ১৭টি চা বাগান। বর্তমানে পঞ্চগড়ের ৭ টি চা কারখানায় ৭ থেকে ৮ রকমের চা উৎপাদিত হয়। চট্টগ্রামের বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতেও হচ্ছে চা চাষ।

গ্রীন টিসহ বিভিন্ন বিশেষ ধরনের চায়ের জন্য একসময় দেশের মানুষ নির্ভরশীল ছিলো ভারতের দার্জিলিং বা চীনের ওপর। অনেক বছর ধরে এসব দেশেই হচ্ছে। অনেক চা পাতার সাথে স্বাদ ও গন্ধ যুক্ত করা হয়। এসব নানা কিছুর ওপর নির্ভর করে চা পাতার দাম। তবে, দাম বাড়তে বাড়তে এখন দেশে পাঁচ টাকার নীচে কোন চা নেই আর ওপরে কয়েকশো টাকায়ও কিনতে হয় এক কাপ চা।

চায়ের পাতা থেকে নিঃসৃত রস মানুষের দেহের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারি হিসেবে বিবেচনা হয়। ফলে কারো কাছে নেহায়েত অভ্যাস নয়, ঔষধ তুল্য।

 

 

Publisher : .