বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই ভাগ্য ফিরে দেশের চা শিল্পের আপডেট: ০৯:৩৯, ২০ এপ্রিল ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: সব জমিতে চা চাষ সম্ভব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের সামান্য কিছু জমি ছাড়া একসময় সিলেট অঞ্চল চা উৎপাদনের জন্য একমাত্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু গত দুই দশকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় শুধু চাষেই নয়, বৈচিত্র্যপূর্ণ উন্নতমানের চা উৎপাদনে ভুমিকা রাখছে। দেশে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ হচ্ছে। চাষের বিস্তৃতি ঘটলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়েছে দেশের চা।

সত্তর দশকের শুরুতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে চা রপ্তানি ছিলো অসম্ভব। প্রায় বিশটি চা বাগান ছিলো সবগুলোই বিদেশী কোম্পানীর মালিকানায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশীয় উদোক্তাদের চা শিল্পে এগিয়ে আসার আহবান জানান। ঋন দেন সহজ শর্তে। চা শিল্পের ভাগ্য ফিরতে থাকে। বাড়তে থাকে উৎপাদন, রপ্তানিও। তবে, ২০০৪ সাল থেকে রপ্তানি কমতে শুরু হয়। গত কয়েক বছরে রপ্তানি নেমে আসে প্রায় শুণ্যের কোঠায়।

চা বোর্ডের পরিসংখ্যান মতে, দেশে চায়ের উৎপাদন এবং বৈচিত্র্য বাড়ছে, বাড়ছে চাহিদাও। অভ্যন্তরীণ এই চাহিদা মেটাতেই বেশ কয়েক বছর ধরে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে এই খাতের মানুষদের। চায়ের আমদানিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে বলে জানান এই খাতের মানুষেরা।

২০১০ সালে দেশে চায়ের চাহিদা ছিলো ৫৭ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন কেজি, সেবছর উৎপাদন হয় ৬০ দশমিক ০৪ মিলিয়ন কেজি, রপ্তানি হয়েছে ০.৯১ মিলিয়ন কেজি।

দেশে এখন বছরে চা উৎপাদন হয় ৮৫ মিলিয়ন কেজি। চাহিদা আছে ৮১ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি চায়ের। অতিরিক্ত দুই মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকাসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশে। অন্যদিকে, গত বছর আমদানি করতে হয়েছে ১১ মিলিয়ন কেজি চা। চা বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি কমে আসলেও আমদানির কোনো প্রয়োজনই নেই বাংলাদেশের।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধি চা শিল্পের মানুষদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হলেও, আমদানি বৃদ্ধি ও রপ্তানি কমে যাওয়া হতাশারও কারণ। এছাড়াও এই শিল্পের অনেকের পর্যবেক্ষণ, আমদানিকৃত চা পাতার মধ্যে নিু মানের চা’ও আসে।

 

 

Publisher : .