অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে চায়ের রপ্তানি কমানো হচ্ছে আপডেট: ০৯:৪০, ২০ এপ্রিল ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের সব সমাজে সমাদৃত সর্বজনীন পানীয় চা, পানের অভ্যাস শুরু হয় চীন দেশে। পরে বিস্তৃতি ঘটে বিশ্ব জুড়ে। বাংলাদেশসহ ভারত উপমহাদেশে আসে ব্রিটিশের হাত ধরে। দেশের ভেতরে চায়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রপ্তানি কমাতে হচ্ছে। দেশীয় চা পাতার উৎপাদনে আসছে বৈচিত্র্য।

প্রায় ৫ হাজার বছর আগে চীনে একদল সাধু ঘটনাচক্রে চা পাতার সাথে পরিচিত হন। শুরু হয় চা পানের অভ্যাস, তারপর সে সময়কার চীনের সম্রাট ‘শেন নাং’ চা পানে রোগ প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিলে, চা পাতার পরিকল্পিত চাষ ও পানীয় হিসেবে ব্যবহারের ব্যাপ্তি ঘটতে থাকে চীনে। দেশের গবেষকরা চায়ের প্রবর্তন নিয়ে ঐতিহাসিক মজার মজার প্রাচীন গল্পগুলো এভাবেই জানান।  

১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ ভারত দখলের পর তাদের হাত ধরে এই উপমহাদেশের মানুষ চায়ের সাথে পরিচিত হতে শুরু করে। বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৪০ সালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাহাড়ে জুম চাষের সাথে। তারপর ১৮৪৩ সালে কর্ণফুলী নদীর তীরে কোদালায় চাষ শুরু হয়। তারপর ব্রিটিশরা এই চাষ বি¯তৃত করে সিলেটে। শুরুতে চাষের শ্রমিক আনে ভারত থেকে।

বাংলা ও ভারত বর্ষের মানুষদের চায়ের অভ্যাস করাতে ব্রিটিশরা বিনা খরচায় চা খাওয়াতো এমন গল্পও জানা যায়। এভাবে দেশের মানুষ অভ্যস্ত হতে হতে চা’য়ে নির্ভরতা তৈরী হয়। চা চাষ ও বাণিজ্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ১৯৪৭’এ ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগ করে। স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে চা চাষ অব্যাহত রাখে। ১৯৫১ সালে পাকিস্তান সরকার চা বোর্ড গঠন করে, এবং ৫৭ সালে পরবর্তীতে বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই চা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন। একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন দেশে চা শিল্প বিকাশে।

দেশে চা চাষের বিস্তার ঘটেছে গত কয়েক দশকে বিভিন্ন অঞ্চলে। চা বাগানের সংখ্যা এখন ১৬৯টি, এর মধ্যে তিনটি সরকারি। বছরে চায়ের উৎপাদন সাড়ে আট কোটি কেজি।

 

 

Publisher : .