মৃৎশিল্পে আধুনিকতার ছোঁয়া, শুধু মর্যাদা বাড়েনি কুমারদের

প্রকাশিত: ০৬:০৪, ০৮ অক্টোবর ২০১৮

আপডেট: ০৬:০৪, ০৮ অক্টোবর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: মৃৎশিল্পে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে বহু আগেই, যা এই শিল্পে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে দুর অতীতের চেয়ে অনেক বেশি। দেশের অনেক ধরনের মৃৎশিল্পকর্ম রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। আনুষ্ঠানিক শিল্প চর্চা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে মৃৎশিল্পের বিশেষ গুরুত্বের জায়গা তৈরি হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। শুধু সমাজে কুমারদের সামাজিক মর্যাদার জায়গাটি আগের মতই পিছে পড়ে আছে।

এক সময় কুমাররা নিজের হাতে প্রতিটি মাটির জিনিস কোনো ধরনের যান্ত্রিক সহায়তা ছাড়াই তৈরি করতেন। মাটির মন্ড বানানো, সেখান থেকে নকশা অনুযায়ী পাত্র তৈরির জন্য মাটি কেটে কেটে আকৃতিতে রুপ দেওয়া, এবং রোদে শুকিয়ে তার শেষ পরিচর্যা করে ব্যবহার বা বিক্রি উপযোগী করার সমস্ত ধাপই এক সময় সেকেলে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে করতেন কুমাররা। ফলে অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল মৃৎশিল্পের নির্মাণ কাজ। কিন্তু কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন যন্ত্রের সংযোজন অল্প সময়ে যেমন অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করেছে তেমনি পণ্যের নকশা ও মান উন্নত করতেই সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

দেশের মাটির তৈরি জিনিসপত্র নতুন নতুন শিল্পরূপ ও আধুনিকতার ছোয়া পেয়ে শুধু শহরের মানুষের কাছেই নয়, বিদেশীদের কাছেও আকর্ষণীয় ও সমাদৃত হয়ে উঠেছে ক্রমে। ফলে দেশীয় মৃৎশিল্পের বাজার বিদেশে অল্প অল্প করে গড়ে উঠছে। মৃৎশিল্প রপ্তানীর সাথে জড়িত রয়েছে দেশের ২০ টির মত প্রতিষ্ঠান। যারা উন্নত দেশগুলোতেও দেশের এই শিল্পকর্ম রপ্তানী করে।

দেশের চারুকলা প্রতিষ্ঠানে মৃৎশিল্পের উপর বিশেষায়িত শিক্ষার আয়োজন বি¯তৃত হচ্ছে। তাতে আধুনিক চিন্তা চেতনার মৃৎশিল্পী তৈরি হচ্ছে। তবে যারা পারিবারিকভাবে সমাজের স্বশিক্ষিত কুমার তাদেরকে সমাজে শিল্পীর সেই মর্যাদা দেয়া হয়না বলে আক্ষেপ রয়েছে অনেকের।

তবে দেশের মৃৎশিল্পীদের কেউ কেউ বিভিন্ন দেশে গিয়ে কাজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন এমন সফল গল্পের উদাহরণও রয়েছে। যা দেশের মৃৎশিল্পকে বিদেশের মাটিতে পরিচিত করে তুলছে স্বয়ং শিল্পীর হাত ধরে।

শুধু যে ছোট খাট শিল্প কর্মই মাটি দিয়ে হয় তা নয়। মৃৎশিল্পীরা টেরাকোটা দিয়ে অনেক বড় বড় দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন যার সমাদর বাড়ছে। মৃৎশিল্পীদের তৈরি করা টালি ঘরের সুন্দর ছাদ তৈরি করতে ব্যবহার হয়।
দেশের মৃৎশিল্পের চাহিদা ও বাজার দেশের বাইরে থাকলেও গত কয়েক বছরে মৃৎশিল্পকর্ম রপ্তানীর যে পরিসংখ্যন টাকার অংকে পাওয়া গেছে তাতে রপ্তানীর পরিমাণ গত পাচ বছরে কমেছে। তবে উদ্যোক্তারা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে সরকারি বেসরকারি প্রচেষ্টা এই খাতের রপ্তানীকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে।  

 

এই বিভাগের আরো খবর

নড়াইলে পান চাষে লাভবান কৃষকরা

নড়াইল প্রতিনিধি: অনুকূল আবহাওয়ায়...

বিস্তারিত
টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দূষণের কারণে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *