মৃৎশিল্প বিলুপ্তির সঙ্গে দেশের কুমার পাড়াগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে

প্রকাশিত: ০৬:০৬, ০৮ অক্টোবর ২০১৮

আপডেট: ০৬:০৬, ০৮ অক্টোবর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: হোক গ্রাম কিংবা শহর, দেশের কম বেশি সকল জনপদেই এক বা একাধিক কুমার পাড়া ছিল বলে গবেষকদের কাছ থেকে জানা যায়। কিন্তু গত কয়েক দশকে নানান কারণে অনেক কুমার পাড়া শুধু বিলুপ্তই হয়ে যায়নি অবশিষ্টগুলোও ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। মৃৎশিল্পের আধুনিকায়ন হয়েছে, তবে এর নির্মাণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে কুমারদের জন্য নতুন নতুন কঠিন বাস্তবতা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

খোদ ঢাকা শহরের রায়ের বাজারে এক সময় বিশাল পাল পাড়া বা কুমার পাড়া ছিল। নারী পুরুষ নির্বিশেষে এই পাল বংশের মানুষেরা মৃৎশিল্পের সাধনা করতেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। এখন এই রায়ের বাজারে সেই কুমার পাড়া খুঁজে পাওয়ায় কঠিন। অবশিষ্ট অল্প কয়েকটি পরিবার আছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় গত কয়েক দশক ধরে কেন কিভাবে এই পুরো কুমার পল্লীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

রায়ের বাজারের মতই এমন গল্প খুঁজলে পাওয়া যাবে দেশের বিভিন্ন জনপদে। বহুকাল আগে মৃৎশিল্পের যে জমজমাট চাহিদা ও বাণিজ্য ছিল সেটা না থাকায় আয়ের পরিমাণ কমে গেছে কুমারদের। যা তাদের পরিবারগুলোকে নিরুৎসাহিত করেছে এই শিল্পে টিকে থাকতে। আবার কুমারদের পরিবারগুলোতে নতুন প্রজন্মের সন্তানরা আধুনিক এই সময়ে পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেয়ে নতুন নতুন পেশায় যুক্ত হতে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ছে।

এক সময় মৃৎশিল্পীদের শিল্পের কাচামাল প্রকৃতি থেকে বিনামুল্যে সংগ্রহ করা যেতো। কিন্তু সেই বাস্তবতা নেই। এখন শিল্পকর্মের জন্য কিনতে হয় মাটি।

এ ধরনের নানান কঠিন বাস্তবতায় মৃৎশিল্প তার বি¯তৃতি ক্রমেই হারাচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে সংখ্যায় কমে গেলেও আজও অনেক কুমার পাড়ায় মৃৎশিল্পীরা মাটির যে সকল সামগ্রী তৈরি করছেন তার বাজার গ্রামের আঙিনা ছাড়িয়ে শহর এমনকি রাজধানীতেও বি¯তৃত হয়েছে। কুমারদের তৈরি করা সামগ্রীর ওপর শহরের শিল্পীরা নানান শিল্পকর্ম যুক্ত করে সেগুলোর আরো নান্দনিক রূপ দিচ্ছেন। যা মৃৎশিল্পের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। ফলে সংকুচিত হলেও এই শিল্পের বিলুপ্তি নয়, বরং আকর্ষণীয় রূপান্তরের স্বপ্ন দেখেন মৃৎশিল্পীরা।

এই শিল্পের যারা গবেষক ও পর্যবেক্ষক তাদের মতে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা মৃৎশিল্পীরা পারিবারিকভাবে এই শিল্পকর্ম শেখেন। স্বশিক্ষিত এই শিল্পীদের পরিকল্পিত সংগঠিতভাবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সমর্থন দেয়া গেলে মৃৎশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ও ব্যাপ্তি দেশের বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারবে।

এই বিভাগের আরো খবর

নড়াইলে পান চাষে লাভবান কৃষকরা

নড়াইল প্রতিনিধি: অনুকূল আবহাওয়ায়...

বিস্তারিত
টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দূষণের কারণে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *