ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-23

, ১২ মহাররম ১৪৪০

পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ লক্ষীবাওর জলাবন

প্রকাশিত: ০৩:৫৩ , ০৯ জুলাই ২০১৮ আপডেট: ০৩:৫৪ , ০৯ জুলাই ২০১৮

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: চারিদিকে শুধু জল আর জল। এরই মাঝে হিজল আর করচের বাগান। সেখানে পশু আর পাখির বিচরণ। এমন একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জায়গা হল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার লক্ষীবাওর জলাবন। যা সিলেটের রাতারগুলের চেয়েও আয়তনে বড় এবং বৈচিত্রে ভরপুর। পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ এই জলাবন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পূর্ণতায় লক্ষ্মীবাও’র জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) যেন এক সৌন্দযের লীলাভূমি। বর্ষায় স্বচ্ছ জলের সঙ্গে মিতালি গড়ে বাহারি প্রজাতির বৃক্ষলতার সবুজ গালিচা। হেমন্তে মনে হয় ছোট ছোট পাহাড়ের মেলবন্ধন। শীতে দেশি-বিদেশি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয় নির্জন এই জলাবন। দূর থেকে জঙ্গলটিকে দেখে মনে হবে যেন পানির উপর ভাসছে। হিজল, বরুণ, কাকুরা, খাগড়া ইত্যাদি গাছ ও গুল্মে পরিপূর্ণ এই জলাবন সকল ঋতুতে বৈচিত্র্যময় পর্যটকদের জন্য। কিন্তু সৌন্দর্যের এই হাতছানিকে সবসময় সাদরে গ্রহণ করতে পারেন না। কারণ এর প্রচার-পরিচিতি কম এবং যোগাযোগে সমস্যা।

পরিবেশবিদদের মতে, পৃথিবীতে ২২টি জলাবন রয়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন হচ্ছে সিলেটের রাতারগুল। রাতারগুলের মতোই বানিয়াচঙ্গের লক্ষ্মীবাওর জলাবন। তবে লক্ষ্মীবাওর জলাবনের আকার ও আয়তনের ব্যাপ্তি অনেক বড়। এ জলাবন নিয়ে গবেষণা করলে এনে দিতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় জলাবনের স্বীকৃতি।

বানিয়াচং উত্তরের নিভৃত হাওরের অথৈ জলরাশির মধ্যে অপূর্ব রূপ নিয়ে ভেসে আছে লক্ষ্মীবাওর জলাবন। এর দক্ষিণ দিকে লোহাচুড়া, উত্তরে খড়তি আর পশ্চিমে নলাই নদী। তার পূর্ব পাশে আবার রয়েছে গঙ্গাজলের হাওর। জলাবনের আয়তন সাড়ে ৩ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় সমান। কয়েকশ’ বছর আগে প্রকৃতিগতভাবেই এর সৃষ্টি বলে স্থানীয় লোকজন জানান। স্থানীয়দের কাছে লক্ষ্মীবাওর এবং খড়তির জঙ্গল নামে পরিচিত।

হবিগঞ্জ শহর থেকে ১২ মাইল পর বানিয়াচঙ্গ আদর্শবাজার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটারের পথ লক্ষ্মীবাওর জলাবনের। জলের মধ্যে বনের অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগ করতে বর্ষায় নৌকা, হেমন্তে মোটরসাইকেল, ট্রলি কিংবা পায়ে হেঁটে যেতে হয়। হেমন্তে ভোগান্তি একটু বেশী। বর্ষায় স্বচ্ছ জলেই বনটি বেশী উপভোগ্য।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট হচ্ছে সিলেটের রাতারগুল। রাতারগুলের চেয়ে লক্ষ্মীবাওর সোয়াম্প ফরেস্টের আকার ও আয়তনের ব্যাপ্তি অনেক বড়। বয়সের দিক থেকেও এটি প্রাচীন। এটা দেশবাসীর কাছে পরিচিতি করে তুলতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীবাওর জলাবন নিয়ে গবেষণা করলে এনে দিতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় জলাবনের স্বীকৃতি।

হবিগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সফিউল আলম জানান, হাওর, পাহাড় আর সমতলের অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ জেলা পর্যটকদর আকর্ষণীয় স্থান লক্ষ্মীবাওর জলাবন । জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বানিয়াচংয়ের লক্ষীবাওর যাতে আরও পর্যটক বান্ধব করা যায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অন্যের কাঁধে ভর করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি- ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্যের কাধে ভর করে ক্ষমতায় যাওয়া স্বপ্ন দেখছে বিএনপি। দলটির প্রতি জনগণের সমর্থন না থাকায় বিএনপির এই স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে...

চাঁদপুর জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুর জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় আর নানা অনিয়মে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is