ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-22

, ১১ মহাররম ১৪৪০

ঢাকার কবরস্থানে প্রত্যাশিত ঠাঁই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত: ০৯:২৫ , ০৬ জুলাই ২০১৮ আপডেট: ১২:৪৫ , ০৬ জুলাই ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: অব্যাহত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জমির অপ্রতুলতা নিভৃতে রাজধানী ঢাকায় একটি সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে, আর তা হলো কবরস্থানে মৃত্যুর পর প্রত্যাশা অনুযায়ী ঠাই পাবার অনিশ্চয়তা। প্রায় দুই কোটি মানুষের মহানগরীতে এই সমস্যা মূলত ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের। মৃত্যুর পর স্বজনের শেষ স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখবার অংশ হিসেবে কবর সংরক্ষণের চিরায়ত চর্চা অব্যাহত রাখাকে দিনদিন দুরূহ করে তুলছে কঠিন বাস্তবতা। এছাড়াও মানুষের শোক ও আবেগের জায়গা কবরস্থানকে নিয়ে আছে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা ও ধারণা।

এই অতি ঘনবসতিপূর্ন ঢাকা মহানগরীর আয়তন স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছরে একটু একটু করে বেড়ে ৩০৫ বর্গ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যাও বেড়ে হয়েছে দুই কোটির মতো, যা ৪০ বছরের ব্যবধানে দ্বিগুনেরও বেশি। সরকারি কবরস্থানের সংখ্যা দ্বিগুন না হলেও বেড়ে হয়েছে ৫ থেকে ৮। তারপরও মৃত্যুর পর সেসব কবরস্থানে স্থান সংকুলান এক দুরুহ ব্যাপার।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতি অনুসারে ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারীরা মৃত্যুর পর দেহ কবর দিয়ে থাকে। সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দেহ মৃত্যুর পর তাদের বিশ্বাস ও রীতি অনুসারে শ্মশানে পোড়ানো হয়। তবে, খুব সামান্য ব্যতিক্রম আছে এই দুই ধর্ম বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রেও।


বৌদ্ধদের জন্য সরকারি আয়োজনে কোনো শ্মশান নেই, আছে তাদের নিজস্ব আয়োজন। হিন্দুদের জন্য নগরীতে দুটি সরকারি শ্মশান আছে। দুটোতেই শ্মশানের পাশে কিছু জায়গায় কবর দেবারও আয়োজন রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। দেশের অতি পরিচিত রাজণৈতিক নেতা নির্মল সেন, চিত্র পরিচালক সুভাস দত্তের কবর আছে এখানে। তাদের ইচ্ছায় মৃত্যুর পর দেহ না পুড়িয়ে শায়িত করা হয়েছে চির নিদ্রায়।

খ্রিস্টানদের কবরস্থান থাকলেও সরকারি আয়োজনে একটিও নেই নগরীতে। নিজেদের তিনটি গীর্জার সাথে আছে কবর দেয়ার আয়োজন। শুধু মুসলমানদের জন্য সরকারি উদ্যেগে আছে ৮টি কবরস্থান। যেখানে এখন মোট জমির পরিমান ২৩৭ একর। সর্বোচ্চ দুই লাখ ৬০ হাজার মৃতদেহ কবর দেবার সক্ষমতা আছে এই আট কবরস্থানে।

নগরীর সরকারি কবরস্থানগুলো দেখভালের দায়িত্ব দুই সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু স্বজনরা যখন প্রিয়জনের মরদেহ সযতেœ চিরনিদ্রায় শায়িত করবার জন্য নিয়ে যায় কবরস্থানে সেখানে সেবা দেয়ার আয়োজনটা কর্তৃপক্ষের নয়। সেখানেও আছে ঠিকাদারি ব্যবসা।

১৯৫৯ সালে ঢাকায় কবরস্থানের জন্য করা হয় একটি মাস্টারপ্ল্যান। এরপর ১৯৯৫ এবং ২০১৫ সালে প্ল্যান করা হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি কোনো উদ্যোগ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is