ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

2019-02-20

, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০

ভূমি সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা মোট মামলার ৩০ শতাংশ

প্রকাশিত: ০৯:৪৪ , ০৫ জুলাই ২০১৮ আপডেট: ১২:০২ , ০৫ জুলাই ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমি রেজিস্ট্রি আইনের বহুদফা সংশোধন এবং আধুনিকায়ন করা হলেও, এর সুফল সাধারণ মানুষ কখনোই পায়নি। বরং সময় যতই গড়িয়েছে বেড়েছে হয়রানী-প্রতারণা। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে সেবার মান বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ফৌজদারী এবং দেওয়ানী মালার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, বর্তমানে যা মোট মামলার অন্তত ৩০ শতাংশ। যা বছরের পর বছর ধরে অমিমাংশিত রয়ে যাচ্ছে।
যোবায়ের আহম্মেদ। বছর দশেক আগেও ছিলেন সাইকেল দোকানের ম্যনেজার। ২০০৯ সালে প্রভাবশালীদের সহায়তায় দলিল লেখকের নিবন্ধন নেন। খুলে যায় ভাগ্য। সম্পর্ক গড়ায় সরকারের উর্দ্ধ মহল পর্যন্ত। টাকা দিয়ে সব কিছুই বসে আনেন তিনি। দখল করেন দলিল লেখক সমিতির মহাসচিবের পদও।
এর পর আর পিছু ফিওে তাকাতে হয়নি। বনে যান রাঘব বোয়াল। সারাদেশের দলিল লেখকদের দিয়ে গড়েতোলেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে সাব রেজিস্ট্রার থেকে মহাপরিদর্শকের দপ্তর পর্যন্ত। সিন্ডিকেটের বাইরের কোনো দলিল রেজিষ্ট্রিতো হয়ইনা। বরং গত ৬ বছরে যতগুলো দলিল জাল হয়েছে, রেজিস্ট্রি অফিস থেকে বালাম বই চুরি হয়েছে, এ সবেরই নেপত্থ কারিগর এই যোবায়ের।
২০১৪ সালে বাড্ডার ২০১০ সালের ৩০ মে মারা যাওয়া আব্দুল মালেকের স্থানে ভিন্ন এক ব্যাক্তিকে দাতা সাজিয়ে সৈয়দ তাজুল বাশারের নামে ১৪ শতাংশ জমি ২০১৪ সালে আত্মসাতের দলিল বানিয়ে দেয়ার অভিযোগ আছে এই যোবায়েরের বিরুদ্ধে। এ জন্য তিনি ওই সময়ের সাব রেজিস্ট্রারকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দেন আর নিজে নেন ৫০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১ জানুয়রী দুর্নীতিদমন কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলাও করে। মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাও রয়েছে। কিন্তু যোবায়ের আছে বহাল তবিয়তে।
রাজধানীর সদরঘাট এলাকার ৩৫ সৈয়দ আওলতি হোসেন লেনের এই ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়েও চলছে মামলা। প্রকৃত মালিক যোগেশ চন্দ্র দাস ১৯৪৭ সালে আজিজুর রহমান চৌধুরীর কাছে বিক্রি করেন। স্বাধীনতা পরবর্তি আজিজুর রহমান বিক্রি করেন ডা. সিরাজুল ইসলাম এবং বেল্লাল শাহের কাছে। কিন্তু আরএস পর্চায় যোগেশের নাম থেকে যাওয়ায় আবু তাহের নামে এক প্রতারক বরগুনার নিখিল এবং মানিক দাসকে জীবন কৃষ্ণ দাস এবং পলাশ চন্দ্র দাস সাজিয়ে যোগেসের উত্তরাধিকার সাজান। এবং ২০০৯ সালে তাদের কাছ থেকে পাওয়ার অব এ্যটর্নি করিয়ে নেন।
জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলাও করেন। কিন্তু আদালতের সন্দেহ হলে ধরাপড়েযান নিখিল ও পলাশ।
আর এই কাজে ২০০৯ সালে ঢাকার সদর সাবরেজিস্ট্রার অবৈধ সুবিধা নিয়ে দলিলটি রেজিস্ট্রি করেদেন। এমন হাজার হাজার মামলা ঝুলছে আদালতে।
এ জন্য তারা রেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্বহীনতা এবং আপোশি মনোভাবকে দায়ি করেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কিছুতেই শৃঙ্খলা ফিরছে না সড়কে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শৃংখলা শব্দটি যেন একদম বেমানান দেশের পরিবহন খাতে। সড়কে নিয়মনীতি মানার ও প্রতিষ্ঠার কোন চেষ্টাই নেই কারও। পরিবহন মালিক,...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is