ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-23

, ১২ মহাররম ১৪৪০

হয়রানি আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে দেশের ভূমি অফিসগুলো

প্রকাশিত: ০৯:৩৮ , ০৫ জুলাই ২০১৮ আপডেট: ১২:০২ , ০৫ জুলাই ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমির সঠিক মালিকানা এবং সংরক্ষণে ভূমি অফিসই একমাত্র ভরসাস্থল। কিন্তু সাধারণ মানুষের সেবায় প্রতিষ্ঠিত এই দপ্তর সময়ের পরিক্রমায় পরিণত হয়েছে হয়রানি-দুর্নীতির আখড়ায়। টাকা দিলেই সব কাজ হয় এখানে। কিন্তু তাতেও রেহাই পায় না সাধারণ মানুষ। রেজিস্ট্রে অফিসের জটিলতা গড়ায় আইন-আদালতে, যেখানে বছরের পর বছর কেটে যায়, তবু সুরাহা হয় না।
১’শ ৯ বছর বয়সী হাজী নজর আলী। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছেন। ছোট্ট ঘরের বিছানাবন্দি জীবন তার। কিন্তু এক সময়ের প্রভাবশালী নজর আলী সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছিলেন ১৯৬৫ সালে। সহায় সম্পদ ও প্রচুর জমির মালিক ছিলেন তিনি। কিন্তু জাল দলিল চক্রের পাল্লায় পড়ে এখন সব হারিয়ে নিঃস্ব।
পচিশ বছর পঙ্গু হয়ে যাওয়ায় অন্তত শত একর সম্পত্তি বেহাত হয়েগেছে তার। তিন ছেলে আছে তার। কিন্তু তারাও নিদারুন কষ্টের কশাঘাতে এলাকা ছেড়েছেন অনেক আগেই। কিন্তু ষাটোর্দ্ধ মেঝ ছেলে মোহর আলী আজও লড়ে যাচ্ছেন সম্পদ উদ্ধারে।
আর এই জালিয়াত চক্রের মূল হোতা ফজল মোল্লা, জিনি সাভার ও কালামপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তাদের হাত করে নজর আলীর পরিবারকে নিঃস্ব করেছে, তাদের বক্তব্য ভিন্ন। তবে, স্থানীয়রা নজর আলীর অতীত স্বচ্ছলতার কথা বললেন।
এমন হাজারো মোহর আলীদের দেখা মেলে, ভূমি রেজিষ্ট্রি অফিসের বারান্দায়। বছরের পর বছর ধরে ঘুরছেন। কিন্তু কুল কিনারা পাচ্ছেন না। তবে টাকা দিলে সব সেবাই মেলে এখানে।
আবার রেজিষ্ট্রারদের এজলাশেও, আশপাশেও চলে এমন প্রকাশ্য লেনদেন। বৈশাখী টেলিভিশনের উপস্থিতি টেরপেয়ে চাড়াও হয় তারা। তবে, সাবরেজিস্ট্রার এজলাশে বসেই অস্বীকার করেন এসব অপকর্ম।
এ ছাড়াও নানা খাতে তালিকা করে চলে অপ্রদর্শীত অর্থৈর লেনদেন। ভূমি উন্নয়ন কর ১’শ থেকে ১০ হাজার টাকা, নামজারি করিয়েদেয়া ৩ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা, রেজিস্ট্রেশন ১ হজার থেকৈ ৫০ হাজার, খতিয়ান ও নকল কপি উত্তেলন ২’শ থেকে ১ হজার, দলিলের নকল উত্তেলন ৮’শ থেকে ৪ হাজার, গ্রামাঞ্চলের জরিপ প্রতি বিঘা ৫’শ থেকে ২ হাজার, শহরাঞ্চলের ভূমি জরিপ প্রতি শতাংশ ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার, জরিপ রেকর্ড সংশোধন ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার, মামলা পরিচালনার বিভিন্ন ধাপ ১০ হাজার থেকে ৪/৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। তবে, ভিন্ন ভাবে এর পক্ষে সাফাই গাইলেন কর্তারা।
তবে, অভিযোগ একেবারে অমূলক নয় বলেও জানান এই কর্মকর্তা। কিছু অসাধু কর্মকর্তারা এর সাথে জড়িত বলে প্রমানও পেয়েছেন বলে জানালেন তিনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is