ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-19

, ৮ মহাররম ১৪৪০

মুক্ত জীবনেও নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছে অনেক জল্লাদের

প্রকাশিত: ০৯:৩২ , ০৪ জুলাই ২০১৮ আপডেট: ১১:৫২ , ০৪ জুলাই ২০১৮


নিজস্ব প্রতিবেদক: যাবজ্জীবন সাজা খেটে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া জল্লাদের অনেকে হতাশায় জীবন কাটাচ্ছেন।  দীর্ঘ কারাবাসের কারণে অনেকেই হারিয়েছে পরিবার-পরিজন, সহায়-সম্বল। ফলে মুক্ত হয়ে কেউ রিক্সা চালিয়ে, কেউবা দিন মজুরের কাজ করে নিদারুণ কষ্টে দিন যাপন করছে। তাদের কেউ কেউ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা দাবি করেন। মুক্তির পর জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে না এলে হতাশা আবারও ভুল পথে নিয়ে যবার আশংকা তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন কেউ কেউ।
চলচ্চিত্রে জল্লাদের এমন চরিত্রের সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত। বিশালকায় দেহ, লম্বা চুল ও দাঁড়িতে ভয়ংকর রুপে যে জল্লাদকে পরিচালক ফুটিয়ে তোলেন, বাস্তবের জল্লাদ দেখতে তেমন নয়। ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ট্যাপাখোলা এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন একজন জল্লাদ। বঙ্গবন্ধুর পাঁচখুনির ফাঁসি কার্যকরের সময় তিনি সহকারি জল্লাদের ভুমিকায় কাজ করেন।
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মোয়াজ্জেম ১৯ বছর দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাজা খাটেন। এর মধ্যে কখনো সহকারি কখনো বা মূল জল্লাদের ভুমিকায় কাজ করেছেন। দশ বছর আগে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া মোয়াজ্জেম কখনো নিজ এলাকা কিংবা পরিবারের কাছে তুলে ধরেননি জল্লাদ জীবনের কথা।
কারাগারের জল্লাদ মোয়াজ্জেম মুক্ত জীবনে এখন রিক্সাচালক। ভাঙ্গা ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তার। ৫২ বছর বয়সী মোয়াজ্জেম চান সরকারি সহযোগীতা, শুধু বাকিটা জীবন একটু ভালোভাবে বাঁচবার জন্য।
স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের ফাঁসি দিয়ে মোয়াজ্জেমের মতো অনেকেরই মুক্তি মিলেছে। সঠিকভাবে পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা না থাকায়, আবারো বুল জীবনে জড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে কারো কারো।
কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাবিধিতে জল্লাদ বলে আলাদা কিছু না থাকায় কর্তপক্ষের কাছে তারাও অন্যসব অন্য সব কয়েদীর মতোই। কোন কয়েদীর জন্য কারাবাস শেষে পূর্ণবাসনের সরকারি কোন উদ্যোগ যেহেতু নেই জল্লাদদের ক্ষেত্রেও পৃথক কিছু আয়োজন নেই।
কারা কর্তৃপক্ষ মনে করে, মুক্তির পর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জল্লাদদের পরিচয় ও জল্লাদ জীবনের অজানা অধ্যায় আড়ালে থাকাই শ্রেয়।

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is