ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-19

, ৮ মহাররম ১৪৪০

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করতে নিজ আগ্রহেই জল্লাদ হয়েছিলেন সানোয়ার

প্রকাশিত: ০৯:০৭ , ০৪ জুলাই ২০১৮ আপডেট: ১১:৪১ , ০৪ জুলাই ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবনে জল্লাদ হবার লক্ষ্য কারও থাকে না, গোপালগঞ্জের সানোয়ার শেখও তেমনি কোনদিন ভাবেননি। কিন্তু স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর করার ডাক এলে নিজ আগ্রহে জল্লাদের খাতায় নাম লেখান। প্রায় ২৯ বছর কারা ভোগ করে এখন মুক্তজীবনে সানোয়ার। একাত্তরের তিন যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের মোল্লা, বুদ্ধিজীবী নিধনকারী ঘাতক আলী আহসান মুজাহিদ ও গণহত্যাকারী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরির ফাঁসি কার্যকর করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র  রাসেলের দেহে যারা বেয়োনেট চালিয়েছে তাদের ফাঁসি দিতে পেরে নিজের জীবনকে ধন্য মনে করেন সানোয়ার।
রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় দু’শ কিলোমিটার দূরে গোপালগঞ্জের কাসিয়ানী থানাধীন চাপতা গ্রাম। এই গ্রামের ছেলে সানোয়ার শেখ। ১৯৮৯ সালে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হয় তার। জেলে থাকলেও কোনদিন ভাবেননি জল্লাদ হবেন।
২০১০ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন সানোয়ার। তখন স্বপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকরের ঘোষণা আসে। নিজেই জল্লাদের খাতায় নাম লেখান সানোয়ার। মহতি কাজের টানে টানা সাতদিন জল্লাদের প্রশিক্ষণ নেন।
জল্লাদ পরিচয়ে কোন আক্ষেপ নেই সানোয়ারের। উল্টো গর্ববোধ করেন বাঙালীর মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনী মেজর বজলুল হুদা, লেঃ কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, লেঃ কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লেঃ কর্নেল সুলতান শাহারিয়ার রশিদ খান ও লে. কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলাতে পারায়। যুদ্ধপরাধীদেরও ফাসি দিয়েছেন, আছে সেসব ঐতিহাসিক কাজের নানা স্মৃতি।  
২৮ বছর চার মাস সাত দিন কারাবাসের পর মাস ছয়েক আগে মুক্তি পান সানোয়ার, ফেরেন নিজ গ্রামে। নিজ পরিবার, বন্ধু আর গ্রামের মানুষ সানোয়ারের জল্লাদ হয়ে ওঠার গল্প শুনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। কারাগারে পরিচয় জল্লাদ হলেও, বাস্তবে ফিরে সানোয়ার এলাকার ছেলে-বুড়ো সবার প্রিয়জন হয়েছেন।
সানোয়ারের দাবিÑ একমিথ্যা মামলায় দীর্ঘ কারাজীবন হয়েছে তার, এই সময়ে গ্রামে নিজের ভিটেটুকু ছাড়া সব গেছে। কৃষিকাজ করবার মতো সামান্য জমিও নেই, বাকী জীবন সুন্দরভাবে বাঁচবার সামান্য নিশ্চয়তা চান তিনি। 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is