ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-12-14

, ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

দেশের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী আনসার

প্রকাশিত: ০৯:৫৯ , ০২ জুলাই ২০১৮ আপডেট: ০৪:১০ , ০২ জুলাই ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : গড়ে ওঠার ইতিহাসটা বেশ পুরনোই। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্বে গৌরবময় অবদানও কম নয়। দেশের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী, কিন্তু সবচেয়ে কম আলোচিত। অনেকের ভাষায় অবহেলিত। ছোট করে আনসার নামে পরিচিত, যার প্রতিষ্ঠার উৎস খুঁজতে গেলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাছে ফিরে যেতে হয়।

চল্লিশের দশকে দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের সময় পুর্ব ও পশ্চিম বাংলায় বৃটিশরা সাধারণ নাগরিকদের দিয়ে হোমগার্ড নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন করে। তা বিলুপ্ত করে যুদ্ধ শেষে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান হয়। বিলুপ্ত হোমগার্ডের সাবেক কর্মকর্তারা পূর্ব পাকিস্তান, অর্থাৎ বাংলাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, গ্রাম উন্নয়ন, চোরাচালান রোধ, সীমান্ত পাহারাসহ বিভিন্ন কাজে দেশের মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে সরকারের তত্ত্বাবধানে সেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরীর প্রস্তাব দেয়।

১৯৪৮ সালে আইন হয়, বৃটিশ নাগরিক জেমস বুকাননকে পরিচালক করে গঠিত হয় ২৭ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আনসার। সেসময় ১৬ জেলা ও মহকুমার বাংলাদেশ থেকে ধনী, শিক্ষত ও সৎ ব্যক্তিদের আনসারে সম্পৃক্ত করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ১ হাজার মানুষকে আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

বায়ান্ন সালে ভাষা আন্দোলনে আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বার প্রাণ দেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪০ হাজার সশস্ত্র আনসার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রথম গার্ড অব অনার প্রদানসহ বহু স্বর্ণালী ইতিহাস আছে বাহিনীটির। একাত্তরে পাকিস্তানি সরকার আনসারকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করে বাহিনীটির আইন বাতিল করে।

একাত্তরে দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাহিনীটিকে পুনর্গঠন করেন। ১৯৭৬ সালে পার্বত্য অঞ্চল ও গ্রামের নিরাপত্তা কাজে যুক্ত করা হয়। প্রশিক্ষণ দেয় সেনাবাহিনী, তাদের সাথে কাজেও যুক্ত করে। ১৯৯৪ সালে আনসারকে সরকারি করার জন্য বাহিনীতে আন্দোলন হয়। ১৯৯৫ সালে সরকারি বাহিনী হয় আনসার।

 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is