ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-19

, ৮ মহাররম ১৪৪০

অ্যান্টিবায়োটিক যুগের সমাপ্তি ঘটার আশঙ্কা গবেষকদের

প্রকাশিত: ০৯:১০ , ০১ জুলাই ২০১৮ আপডেট: ১২:৪২ , ০১ জুলাই ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: জটিল সব রোগ নিরাময়ে যে সমস্ত অ্যান্টিবায়োটিক দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেই ওষুধগুলোই এখন ধীরে ধীরে কার্যকরিতা হারিয়ে ফেলছে। সাধারণ মানুষের ওপর গবেষণা করে দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠান অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের ওপর যে তথ্য পেয়েছেন তাকে আতংকের চিত্র বলছেন গবেষকরা। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে নীতিমালা না হলে ২০৫০ সালের পর অ্যান্টিবায়োটিক যুগের সমাপ্তি ঘটার আশঙ্কা করছে গবেষকরা। তখন সামান্যতেই হতে পারে বড় বিপদ।

আইসিডিডিআরবি দশ বছরের বেশি সময় ধরে এক লক্ষ মানুষের রক্তের নমুনা পর্যবেক্ষণ করেছে। নমুনায় জীবাণুর উপস্থিতি এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পরীক্ষা করে দেখেছে, জীবাণু ব্যাপক হারে বহু ওষুধ প্রতিরোধী।  এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদও সারা দেশে দু’শ রোগীর ওপর গবেষণা করেছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, সামান্য, সাধারণ দৈহিক সমস্যার জন্যও চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেন রোগীদের। এছাড়া সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন, রোগ নির্ণয় ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময়কাল নির্ধারণে শতকরা ত্রিশ ভাগ চিকিৎসক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত এক সমীক্ষা বলছে, দেশের তিপ্পান্ন শতাংশ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। যাদের প্রতি চার জনের এক ওষুধ সেবনের পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষ করে না।

ডাক্তার, রোগীসহ ওষুধ কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী ব্যবসায়িক মানসিকতা মানুষের দেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স তৈরির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এছাড়াও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের মেয়াদ পূর্ণ না করা একটি বড় কারণ জানিয়ে এই ফার্মাসিস্ট ওষুধের প্যাকেটে সতর্ক বার্তা লেখার পরামর্শ দিয়েছেন।

অব্যবহৃত কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ড্রেনে বা আবর্জনায় ফেলার ফলে তা খালে বিলে নদীতে পড়ায় প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। পরবর্তীতে যা মানুষের দেহে প্রবেশ  করছে। এ অবস্থার পরিত্রাণে সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন ওষুধ বিশেষজ্ঞরা।

এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালের পর অ্যান্টিবায়োটিক মানবদেহে আর কাজ করবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানব  সভ্যতার এই ভীষণ বিপদকে সামনে রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যা বাস্তবায়িত হলে এই গুরুতর সংকট থেকে মানব জাতি রক্ষা পেতে পারে। অন্যথায়  স্যার আলেকজাণ্ডার ফ্লেমিং এর সেই ভয়াবহ ভবিষ্যত বাণীই সত্যি হয়ে যেতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is