ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫

2018-11-14

, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

এশিয়ার পাঁচটি দেশের পণ্যে আমদানি শুল্ক কমিয়েছে চীন

প্রকাশিত: ১১:৪৯ , ২৮ জুন ২০১৮ আপডেট: ১১:৪৯ , ২৮ জুন ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধের মধ্যে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের পণের ওপর  আমদানি শুল্ক কমিয়েছে চীন।

বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য শুভ মনে করেছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, লাওস ও শ্রীলঙ্কার কিছু পণ্য আমদানিতে চীনের শুল্ক ছাড়ের কথা উঠে আসে।

২০০১ সালে স্বাক্ষরিত এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্টের আওতায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। এই সিদ্ধান্ত জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে চীনের সংবাদপত্রটি।

চীনের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য ‘ইতিবাচক’ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।
বাংলাদেশের পোশাক খাত চীনসহ আরও কয়েকটি দেশে আগে থেকেই  ‘ডিউটি ফ্রি’ সুবিধা পেয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখন ট্যারিফ নীতিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ রপ্তানির সম্ভাবনাকে আরও বাড়াবে।”

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক বিরোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বড় অর্থনীতির দেশ। চীনের পণ্যের ওপর ট্যারিফ আরোপের পদক্ষেপ সেই দেশে তেমন প্রভাব না ফেললেও চীনের বাজারে বেশ প্রভাব পড়বে। চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির আকার বেশ বড়। তাই তারা অন্যান্য দেশের সঙ্গে এধরনের পদক্ষেপ নিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাবে।”

চলতি বছরের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অন্যের  পণ্যে একের পর এক শুল্ক আরোপ করছে।

বেইজিংয়ের ‘মেধাস্বত্ব চুরিকে’ কারণ দেখিয়ে ১৫ জুন ট্রাম্প চীনা পণ্যে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর ঘোষণা দেন।

ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চীনের ওপর আরোপ করা শুল্ক ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেবে। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা ভোক্তাদেরই হবে।

এদিকে ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়নের মাত্র পাঁচ দিন আগেই চীন বাণিজ্য সুরক্ষামূলক এই নীতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন সরকার বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে সয়াবিন আমদানির ওপর বিদ্যমান তিন শতাংশ শুল্ক তুলে নিচ্ছে। সয়াখাদ্যের উপর থেকেও বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার হচ্ছে।  

এছাড়াও রাসায়নিক দ্রব্য, কৃষিপণ্য, মেডিকেল যন্ত্রাংশ, পোশাক, স্টিল, নন ফেরোস মেটাল, তরল পেট্রোলিয়াম পণ্যে ২ থেকে ৩ শতাংশ হারে শুল্ক প্রত্যাহার হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য, রাসায়নিকসহ আরও কিছু পণ্য চীনে রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় তৈরি পোশাক।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ বিশ্বের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা থাকলেও জাহাঙ্গীর মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের জন্য আমদানি শুল্ক কমানোর চীনের এই পদক্ষেপে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সুফল পাবেন।
 

এই বিভাগের আরো খবর

ট্যারিফ কমিশনের নাম বদলাতে সংশোধিত আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের নাম বদলে হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন’। এবিষয়ে সোমবার একটি আইনের...

অ্যাপলের শেয়ারের দর কমায় ধাক্কা যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের শেয়ারের দর কমায় ধাক্কা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে।  সোমবার...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is