ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬

2019-04-25

, ১৯ শাবান ১৪৪০

লাঠি যেখানে নারীদের রক্ষাকবচ

প্রকাশিত: ১০:৫০ , ১৩ জুন ২০১৮ আপডেট: ১০:৫০ , ১৩ জুন ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: ইথিওপিয়ার ওরোমো জাতিগোষ্ঠীর নারীরা নিজের রক্ষাকবচ এই লাঠি হাতে নিয়ে চক্রাকারে ঘুরছে আর নিজেদের ভাষায় গান গাইছে। মুখ দিয়ে বিচিত্র এক শব্দ করছে। মাঝখানে একজন মহিলা বসে আছেন।  এই পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে বহু পুরনো ইতিহাস। 

ওরোমো নারীদের যখন বিয়ে হয় তখন তারা এই কাঠের লাঠিটা পেয়ে থাকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে। সিনকিউ নামের এই লাঠি কে ওই নারী এবং তার পরিবারের রক্ষার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। 

ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ, সারা ডুবে বলছিলেন "এখানকার ঐতিহ্যবাহী যে আইন আছে তাতে বলা হয়েছে, একজন বিবাহিত নারীকে অপমান, বা কোন ধরণের নির্যাতন করা যাবে না। এটা একটা অপরাধ"। বিষয়টা আসলে কেমন হয় সেটা বোঝাতে পূর্বপরিকল্পিত একটা পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়েছে।
এখানে দেখানো হচ্ছে, একজন পুরুষ লাঠি হাতে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকছে, উদ্দেশ্য তার স্ত্রীকে মারবেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তে মহিলাটি তার শিশুকে কোলে নিয়ে হাতে সেই সিনকিউ নিয়ে বের হয়ে আসছেন। আর মুখে উচ্চারণ করছেন এই শব্দ। এই শব্দ করার উদ্দেশ্য যাতে করে আশেপাশের অন্যান্য নারীরাও জানতে পারে যে তার উপর নির্যাতন হয়েছে। 

সাথে সাথে পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা নারী রয়েছেন তারা তাদের সিনকিউ নিয়ে দৌড়ে চলে আসলেন। মহিলাটা মাঝখানে বসে পরলেন। আর তাকে ঘিরে এই নারীরা ঘুরতে থাকলো- যেন তাকে রক্ষা করা হচ্ছে সব বিপদ থেকে।  ইথিওপিয়ার ওরোমো নারীদের জন্য প্রাচীন যে গাডা ব্যবস্থা আছে তার একটি অংশ এই সিনকিউ।

ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ, সারা ডুবে বলছিলেন "যখন এই গাডা সিস্টেম চালু করা হয় তখন পুরুষদেরকে বিভিন্ন অস্ত্র দেয়া হত যাতে করে তারা পশু শিকার করতে পারে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে পারে"। তিনি আরও বলছিলেন "মেয়েদের হাতে দেয়া হয় সিনকিউ, যাতে তারা তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করতে পারে"।

এদিকে নারীদের এই শব্দ শুনে গ্রামের মুরুব্বিরা চলে আসেন একটা বিচার বসানোর জন্য। চলতে থাকে শুনানি। নারীরা বলেন "তাকে মারা মোটেই উচিত হয় নি। তার স্বামীর বিচার না করা পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না"। 

শুনানির পর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা তাদের রায় শোনালেন। রায় অনুযায়ী মহিলার স্বামী সবার সামনে ওই নারীর কাছে মাফ চাইলেন। একই সাথে সবার সামনেই প্রতিজ্ঞা করলেন, আর কখনো তাকে মারবেন না। রায়ে আরও বলা হল, যদি সে এর ব্যতিক্রম করে তার জন্য ভবিষ্যতে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন "নারীরা কখনো এসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলেন না"।

এই বিভাগের আরো খবর

মেথি কাতলা

ডেস্ক প্রতিবেদন: এই গরমে মাঝে মাঝে মাছের বাজারে জোগানের আকাল দেখা যায়। ভেটকি, ভোলা, পাবদা, পারশে মাঝে মধ্যেই অমিল হয়ে যায় বাজার থেকে। তবে,...

সম্পর্ক মধুর রাখতে চাইলে

অনলাইন ডেস্ক: একটি সম্পর্ক গড়ে উঠতে অনেক সময় লাগে। দীর্ঘদিনের চেনা জানার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় একটি ভালো সম্পর্ক। অনেক কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার...

সম্পর্ক দৃঢ় করে আলিঙ্গন

অনলাইন ডেস্ক: আলিঙ্গন সর্ম্পককে দৃঢ় করে। শুধু তাই নয়, গবেষকরা বলছেন ভালোবাসার মানুষকে স্পর্শ করলে সুস্থ থাকে উভয়ই। স্পর্শের ফলে শরীরের...

সম্পর্কের মেয়াদ শেষ!

অনলাইন ডেস্ক: প্রেমের শুরুতে সবাই চায়, সম্পর্কটি টিকে থাকবে আমৃত্যু। দু’জন-দু’জনের চোখে চোখ, হাতে হাত রেখে জীবনটা কেটে যাক। কিন্তু সব...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is