ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-17

, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

যে গ্রামের মানুষ পাখির ডাকে কথা বলে

প্রকাশিত: ১১:৪৭ , ০৯ জুন ২০১৮ আপডেট: ১১:৪৭ , ০৯ জুন ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: তুরষ্কের কুস্কয় আর স্পেনের লা গোমেরা থেকে ভারতের চেরাপুঞ্জির কংথং। ভৌগোলিক অবস্থানে তিনটি জায়গা তিনটি পৃথক দেশের হলেও তাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম কিন্তু একটা, ‘পাখির ডাক’। সেটাই তাদের মিলিয়ে দিয়েছে একজায়গায়। 

শব্দই যে ভাব প্রকাশের শেষ কথা তা আরও একবার প্রমাণ করেছে ভারতের চেরাপুঞ্জির মেঘালয়ের ছোট্ট একটি গ্রাম কংথং এর মানুষেরা। তাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম কিন্তু একটা, ‘পাখির ডাক’। পাখির ডাকের মতোই তারা ভাব বিনিময় করে। তুরষ্কের কুস্কয়, স্পেনের লা গোমেরা ও আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একদল আদিবাসীগোষ্ঠীও একইভাবে কথা বলার প্রচলন রয়েছে। 

তারা নাকি মনে করেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক যোগ রয়েছে। তারা সকলেই গাছ, মাটি, জল, বায়ু, পাখির অংশ। সেকারণেই পাখির ডাকই তাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হওয়া উচিত। কোনও কারণে সেই ধারণাটাই চেরাপুঞ্জির এই গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ধারণা মেনে নিয়েই তারা পাখির ডাকে কথা বলাটা দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করেছেন। এখানকার বাসিন্দারা এভাবে কথা বলাটাকেই নিজেদের পরিচিতি বলে মনে করেন। এটাই তাদের অস্তিত্বকে বিশেষ করে তুলেছে এই বিশ্বাস নিয়েই নিজেদের কথা বলার মাধ্যমকে জিইয়ে রেখেছে। 

ঠিক একইভাবে তুরষ্কের কুস্কয় এবং স্পেনের লা গোমেরার বাসিন্দারা অনায়াসে কথা বলে চলেন পাখির ডাকে। ছোট থেকে বড় সকলেই অভ্যস্ত এই মাধ্যমে। একে অপরের কুশল বিনিময় থেকে শুরু করে ফোন নম্বর আদান প্রদান সবই হয় পাখির ডাকের মাধ্যমে। 

স্পেনের লা গোমেরায় আবার পাখির ডাক শেখানোর আলাদা স্কুল আছে। সেখানে গ্রামের শিশুদের পাঠান তাদের মা-বাবা। সঠিক ডাক সঠিকভাবে নকল করা শেখানো হয় সেখানে। কুস্কোয়ের বাসিন্দা নাজমিয়া কাকির বংশ পরম্পরায় এখানেই থাকেন। ঠাকুরদা ঠাকুমার কাছে শিখেছিলেন এই ভাষা। তারপর থেকে আর কখনও অসুবিধা হয়নি। পাখির ডাকে কথা বলেন মানে এমন নয় যে তাদের নিজস্ব ভাষায় তারা কথা বলতে পারেন না বা বলেন না। গোপন কথা বলতে গেলে কিন্তু মাতৃভাষাই ভরসা। পাখির ডাকে কথা বলাটা অনেকটা তাদের অভ্যাসের মতো। 

পাহাড়ি এই গ্রামের মানুষের একমাত্র পেশা কৃষি। আর এই কাজ করেই তারা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর। কিন্তু নিজেদের অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। পাখির ডাকও তো একটা ভাষা। যার সঙ্গে মনের যোগ রয়েছে, বিশ্বাস করেন তারা। শব্দ তো ব্রহ্ম, হোক না সে পাখির ডাক। 

এই বিভাগের আরো খবর

হঠাৎ অদৃশ্য হয় যে প্রাণী

ডেস্ক প্রতিবেদন: সমুদ্রে কিছু প্রাণী অদৃশ্য হতে পারে। বিষয়টি নানা প্রশ্ন জাগায়। আসলে কি এমন প্রাণী আছে? হ্যাঁ, কিছু প্রাণী রয়েছে যারা নিজের...

মাছও রাস্তা পার হয়!

ডেস্ক প্রতিবেদন : রাস্তার মাঝখানে বেশ খানিকটা জায়গা ফাঁকা। দুই পাশেই যানবাহনের ছোট সারি। হঠাৎ দেখায় মনে হদে পারে ট্রাফিক সিগনালে আটকে আছে...

কাজের ফাঁকে বিরতি নিন

ডেস্ক প্রতিবেদন: বিশ্বব্যাপী হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হার বাড়ছে। হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছে বহু মানুষ। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা প্রতিবেদন বলছে,...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is