ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫

2018-11-14

, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বিশ্বের ব্যাংক ব্যবস্থায় মার্কিন নজরদারির আলামত

প্রকাশিত: ০৮:৪৫ , ১৫ এপ্রিল ২০১৭ আপডেট: ০৮:৪৫ , ১৫ এপ্রিল ২০১৭

বৈশাখী অনলাইন ডেস্ক: শ্যাডো ব্রোকারস নামের এক অনলাইন গ্রুপের ফাঁস হওয়া নথিতে বিশ্বের ব্যাংক ব্যবস্থায় মার্কিন নজরদারির আলামত পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সংস্থা বিবিসি'র একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ওই নথিগুলোতে সুইফট সিস্টেমে ঢোকার কোড পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এই কোডগুলো ব্যবহার করে সুইফট সিস্টেমে ঢুকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন অঞ্চলের ব্যাংকগুলোর লেনদেন পর্যবেক্ষণ করেছে। নথি বিশ্লেষণ করে সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে থাকা কোডগুলো ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে ক’দিন আগে সংঘটিত সাইবার ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটানো সম্ভব। তবে সুইফট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এইসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

আজ শুক্রবার শ্যাডো ব্রোকারস নামের গ্রুপটি অনলাইনে বেশকিছু নথি ফাঁস করে। চোরাবাজারে এসব গোপন নথির মূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার। ২০১৬ সালে আত্মপ্রকাশ করা শ্যাডো ব্রোকারস একটি হ্যাকিং গ্রুপ। জেমস বামফোর্ড, ম্যাট সুইশের মতো সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তারা একটি ‘হুইসেল ব্লোয়ার গ্রুপ’, এনএসএ-র ভেতরেও তাদের সহযোগী রয়েছে, যাদের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করেছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা শুক্রবারের ফাঁস তরা এসব নথি পর্যালোচনা করে ধারণা করছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন অঞ্চলের ব্যাংকগুলোর লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) সিস্টেমে ঢুকেছে।  

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ শেন শুক মনে করেন, অনলাইনে ফাঁস হওয়া ওই নথিগুলোতে রয়েছে বেশ কয়েকটি কোড, যা ব্যবহার করে অপরাধীরা সুইফট সিস্টেম হ্যাক করতে পারে।

ফাঁস হওয়া কয়েকটি নথিতে এনএসএ-র সিল দেখা যায়। কর্মকর্তারা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শ্যাডো ব্রোকারস ওই নথি যে হ্যাক করেছে, সে সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো এনএসএ। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে নেয় হ্যাকাররা। শুক বলেন, "ফাঁস হওয়া এসব নথিতে যেসব তথ্য রয়েছে, এর মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি করতে পারবে, যেমনটা আমরা এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখেছি।"  

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে এমন একটি ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে কোনও হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবগত করা হয়। তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন টেক-জায়ান্ট মাইক্রোসফট জানিয়েছে, মার্কিন সরকার বা অন্য কোনও সংস্থা থেকে এমন কোনো ফাইলের অস্তিত্ব, বা কোনো ফাইল চুরি হওয়ার বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, সুইফটের সার্ভিস ব্যুরোর মানে হলো এমন সব কোম্পানি, যারা সুইফটের পক্ষে ছোট গ্রাহকদের অর্থ লেনদেন করতে সুইফটের সার্ভিস ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকেন। 

সুইফটের মাধ্যমে বিশ্বের ব্যাংকগুলো প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার লেনদেন করে থাকে। বেলজিয়ামভিত্তিক সুইফটের দাবি, তারা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আপডেট করে এবং এ সম্পর্কে গ্রাহকদের অবগত করে থাকে। তাই ফাঁস হওয়া নথিতে যেসব কোড রয়েছে, এর জন্য তাদের গ্রাহকদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। এক বিবৃতিতে সুইফট বলেছে, ‘মূল সুইফট সিস্টেমে অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করেছে, এমন কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে বিভিন্ন ব্যাংকের লোকাল সুইফট সিস্টেম হ্যাক করা হতে পারে।’ বিবৃতিতে এনএসএ-র কথা উল্লেখ করা হয়নি।

ফাঁস হওয়া নথিতে সুইফটের আঞ্চলিক সিস্টেমে হ্যাকিংয়েরই নজির পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সুইফটের ব্যুরো সার্ভিস পরিচালনা করে দুবাইভিত্তিক ইস্টনেটস। কুয়েত, দুবাই, বাহরাইন, জর্দান, ইয়েমেন ও কাতারে তাদের গ্রাহক রয়েছে। ফাঁস হওয়া নথির তথ্য বিশ্লেষণে ধারণ করা হচ্ছে, এ ব্যুরো সার্ভিসটি হ্যাক করেই এনএসএ বৈশ্বিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় নজরদারি চালিয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ক্রিস থমাস বলেন, ‘ফাঁস হওয়া ফাইলগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা মার্কিন সরকারের রয়েছে।’ 

তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি আঞ্চলিক সিস্টেম হ্যাক হওয়া মানেই গোটা সুইফট সিস্টেম হ্যাক হওয়া। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা কোমে টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট সুইশে জানান, ‘যদি আপনি সার্ভিস ব্যুরো হ্যাক করতে সক্ষম হন, তাহলে সব ব্যাংকের সব গ্রাহকের তথ্যই আপনার সামনে থাকে।’ সুইশে জানান, ‘ফাঁস হওয়া নথিতে রয়েছে বহু এক্সেল ফাইল। যাতে একটি সার্ভিস ব্যুরো নেটওয়ার্কের কম্পিউটারের তালিকা, ব্যবহারকারীর নাম, পাসওয়ার্ড এবং আরও অনেক তথ্য রয়েছে। সুইফট সিস্টেম হ্যাক করার পরই শুধু এসব তথ্য পাওয়া যেতে পারে।’ 

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইস্টনেটস অবশ্য এসব দাবি অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইস্টনেটস সার্ভিস ব্যুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে এক হ্যাকার গ্রুপ যে বক্তব্য দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’  বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইস্টনেটস নেটওয়ার্ক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইউনিট সার্ভার পরীক্ষা করে দেখেছে, তাতে হ্যাকিংয়ের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।’

এই বিভাগের আরো খবর

কর্মস্থলে যৌন হেনস্তা রুখতে কড়া ব্যবস্থা গুগলের

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: কর্মস্থলে নারীদের যৌন হেনস্তা রুখতে এক সপ্তাহ আগেই প্রতিবাদে নেমেছিলেন গুগলে শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার থেকে প্রায় সব...

কর ফাঁকি বন্ধে সামাজিক মাধ্যমে তল্লাশি করবে ফ্রান্স 

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: কর ফাঁকি এড়ানো ঠেকাতে সামাজিক মাধ্যমে অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে তল্লাশি চালাবে ফ্রান্সের কর কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালের...

নিজের ছবি দিয়েই বানিয়ে ফেলুন হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: এবার নিজের ছবি দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার। এবং এই স্টিকার টেক্সটও করতে পারবেন। আর তা একটি নয়, আপনার...

স্মার্টফোনের দাম কমালো হুয়াওয়ে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: জনপ্রিয় দুটি স্মার্টফোনের দাম কমিয়েছে হুয়াওয়ে কনজ্যুমার বিজনেস গ্র“প (বাংলাদেশ)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফিচারের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is